রাতারাতি ইরানের আকাশসীমা যেন এখন শত্রুশক্তির আধুনিক যুদ্ধবিমানের জন্য এক ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর গর্বের পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটার এবং অত্যাধুনিক ড্রোনগুলোকে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ফাঁদে ফেলে শিকার করছে ইরান।
দেশটির জয়েন্ট এয়ার ডিফেন্স হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি শনিবার এক বীরত্বপূর্ণ হুঙ্কার ছেড়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন।

জেনারেল এলহামি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান শুধু শত্রুর জন্য অপেক্ষা করছে না, বরং তারা ‘অ্যামবুশ’ বা ওত পেতে বসে আছে। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর তথাকথিত অপরাজেয় প্রচারণাকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে ইরানি সেনারা ইতিমধ্যে বেশ কিছু অত্যাধুনিক চতুর্থ ও পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেট ভূপাতিত করেছে।
তিনি আরও যোগ করেন, আমাদের সাহসী বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী এখন পর্যন্ত আমেরিকার গর্ব এম-কিউ রিপার, ইসরাইলের হার্মেস এবং লুকাসের মতো ১৬০টিরও বেশি ঘাতক ড্রোন ধ্বংস করেছে। এছাড়া ডজন ডজন ক্রুজ মিসাইল মাঝ আকাশেই গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে, যা শত্রুর ফাঁপা প্রোপাগান্ডাকে বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত করেছে। আর এই বিজয় অর্জনে ইরান ভরসা রেখেছে তাদের পুরনো প্রযুক্তিতেই।

ইরানের এই অভাবনীয় সাফল্যের রহস্য কী? জেনারেল এলহামির মতে, এটি কোনো বিদেশি সাহায্য নয়, বরং সম্পূর্ণ ইরানি মেধা ও প্রযুক্তির ফসল। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী এবং আইআরজিসির সমন্বয় ও উদ্ভাবনী কৌশলের কাছে শত্রু আজ দিশেহারা। আমাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে তৈরি রাডার ও মিসাইল সিস্টেম পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটারগুলোকেও শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ভয়াবহ সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। কোনো উস্কানি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর পৈশাচিক হামলা চালায়, যাতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা শাহাদাত বরণ করেন।

ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো এবং সামরিক ঘাঁটিতে চালানো সেই বর্বরোচিত হামলার প্রতিশোধ নিতেই এখন তেহরান মারমুখী অবস্থানে। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন স্বার্থ এবং অধিকৃত অঞ্চলে ইসরাইলি অবস্থানের ওপর একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরান বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পার পাওয়া এখন অসম্ভব।
জেনারেল এলহামি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানি আকাশসীমা রক্ষায় তাদের সেনারা অবিরাম সজাগ রয়েছে এবং শত্রুর যেকোনো দুঃসাহসের জবাব দেওয়া হবে আরও কঠোর ও বিধ্বংসী উপায়ে। শত্রুপক্ষ এখন কেবল ইরানের স্বদেশি প্রযুক্তির এই ‘মরণফাঁদ’ দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে আছে।
তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি ও ফারস নিউজ
