মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার ছায়া যুদ্ধ এবার এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরান-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হ্যাকার গোষ্ঠী ‘হান্দালা’ দাবি করেছে যে, তারা ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সাবেক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারজি হালেভির মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে সক্ষম হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে তারা হালেভির কয়েক ডজন ব্যক্তিগত ছবি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র ইন্টারনেটে প্রকাশ করেছে। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য দিয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, হ্যাকার গোষ্ঠী তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা হালেভির ডিভাইস থেকে প্রায় ১৯ হাজারেরও বেশি অতি-গোপনীয় ছবি এবং ভিডিও সংগ্রহ করেছে। এই তথ্যগুলো ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত হালেভির দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের। হ্যাকারদের দাবি অনুযায়ী, তাদের সংগ্রহে থাকা তথ্যের মধ্যে বিভিন্ন গোপন বৈঠক, ক্রাইসিস রুম, সামরিক মানচিত্র এবং কমান্ড সেন্টারগুলোর অতি ক্ষুদ্র খুঁটিনাটি বিবরণও রয়েছে।

বিবৃতিতে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আপনার সব গোপন স্থাপনা, মানচিত্র এমনকি কমান্ড সেন্টারের ক্ষুদ্রতম অংশও আমাদের কাছে খোলা বইয়ের মতো।
সামাজিক মাধ্যমে হান্দালা বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে সাবেক এই সেনাপ্রধানকে সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করতে এবং উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, হ্যাকাররা হালেভির ব্যক্তিগত জীবনের ছবি, যেমন পরিবারের সাথে সময় কাটানো বা শরীরচর্চা করার ছবিও ফাঁস করেছে। এমনকি হালেভি এবং তার স্ত্রীর পরিচয়পত্রের ছবিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলের একটি বিশ্বস্ত সূত্র ফাঁস হওয়া এই ছবিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তবে, হালেভির প্রতিনিধি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এই ‘হান্দালা’ হ্যাকার গোষ্ঠীটি গত মাসেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর পরিচালক কাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত ইমেইল হ্যাক করে আলোচনায় এসেছিল। এবার তাদের নিশানায় শুধু হালেভি নন, বরং ইসরাইলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং বেনি গান্টজের মতো শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের নামও রয়েছে।

ইসরাইলের শীর্ষ সামরিক কর্তাদের ব্যক্তিগত ডিজিটাল নিরাপত্তা এতো সহজে ভেঙে ফেলা এবং হাজার হাজার গোপন নথি হাতিয়ে নেওয়ার এই দাবি সত্য হলে, তা তেল আবিবের জন্য এক বিশাল নিরাপত্তা বিপর্যয় হিসেবে গণ্য হবে। বিশেষ করে যেখানে ইসরাইল নিজেদের সাইবার নিরাপত্তায় বিশ্বসেরা বলে দাবি করে, সেখানে সাবেক সেনাপ্রধানের ব্যক্তিগত জীবন ও সরকারি নথি এভাবে প্রকাশ্যে আসা দেশটির গোয়েন্দা সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ইরানি হ্যাকারদের এই হানা প্রমাণ করে যে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক লড়াই কেবল সীমান্তে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি এখন পকেট থেকে ড্রয়িংরুম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ইসরায়েলি নীতি নির্ধারকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং সামরিক নথির সুরক্ষা এখন এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখে।
