যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মুকোমুখি কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সাময়িক স্থবিরতা আসলেও, পর্দার আড়াল থেকে সমঝোতার চেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে , মুখোমুখি বৈঠক স্থগিত হলেও, ভার্চুয়ালি আলোচনার মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে দূরত্ব কমানোর কাজ চলছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দুই বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করার পর শান্তি প্রচেষ্টার আশা কিছুটা ম্লান হয়ে পড়ে।

ট্রাম্প সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি চুক্তি করতে চায় তবে তারা সরাসরি ফোন করতে পারে। তাঁর মতে, বারবার দীর্ঘ বিমান যাত্রা করার চেয়ে ফোনে কথা বলাই শ্রেয়। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, চুক্তির শর্ত অত্যন্ত সাধারণ, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।
এদিকে আলোচনার জন্য প্রস্তুত করা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ এক সপ্তাহ লকডাউনে থাকার পর পুনরায় স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। যে বিলাসবহুল হোটেলটি আলোচনার ভেন্যু হিসেবে খালি করা হয়েছিল, তা এখন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতা স্মারক বা খসড়া তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আপাতত সরাসরি কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।
যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। লোহিত সাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সোমবার তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি করেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এরই মধ্যে পাকিস্তান ও ওমান সফর শেষ করে বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি মিত্র দেশ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করবেন। ইরানের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যে, আলোচনার প্রথম ধাপে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া নিয়ে কথা হবে, আর পারমাণবিক ইস্যুটি পরের ধাপের জন্য রাখা হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার ফর্মুলায় এখনো পুরোপুরি সায় দেয়নি।
অন্যদিকে লেবানন সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এপ্রিলের মাঝামাঝিতে হওয়া যুদ্ধবিরতির পর গত রবিবার ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন, যেখানে ইসরাইলি হামলায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো শান্তি আলোচনায় যাবে না। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট নিরসনে কূটনীতি ও রণক্ষেত্রের লড়াই এখন এক চরম পরীক্ষার সম্মুখীন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
