আজ শেষ হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতার মেয়াদ। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতায় ৬০ দিনের বেশি যুদ্ধ করা যাবে না। সেই হিসেবে, যুদ্ধ চালিয়ে নিতে নতুন করে অনুমতি দিতে হবে দেশটির পার্লামেন্টের। এ বিষয়ে চলছে শুনানি।
১৯৭৩ সালে প্রণীত এই ফেডারেল আইনের মূল লক্ষ্য ছিল, বিদেশের মাটিতে যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতা খর্ব করা।
এই আইন অনুযায়ী, সামরিক পদক্ষেপ শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসকে অবহিত করতে হয়। এরপর তিনি সর্বোচ্চ ৬০ দিন সেনা মোতায়েন রাখতে পারেন। কংগ্রেস চাইলে আরও ৩০ দিন সময় বাড়াতে পারে। তবে এর বেশি সময় সেনা মোতায়েন রাখতে হলে কংগ্রেসের চূড়ান্ত অনুমোদন বা যুদ্ধ ঘোষণা প্রয়োজন।
২ মার্চ ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে অবহিত করার মাধ্যমে এ সময়সীমাটি কার্যকর হয়েছে এবং এর মেয়াদ ১ মে শেষ হবে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন পাওয়া ট্রাম্পের জন্য বেশ কঠিন। কারণ ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে এ নিয়ে গভীর বিভেদ রয়েছে। গত ১৫ এপ্রিল প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ করার ক্ষমতা সীমিত করার একটি দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টা ৫২-৪৭ ভোটে সিনেটে ব্যর্থ হয়।
এ আসন্ন সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় রিপাবলিকানদের মধ্যেই বিভাজন দেখা যাচ্ছে। রিপাবলিকান সিনেটর জন কার্টিস বলেছেন, তিনি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে চলমান সামরিক অভিযানকে সমর্থন করবেন না।
আবার মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে বর্তমানে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যদি রিপাবলিকান পার্টি এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে না পারে, তবে নিজের লক্ষ্য পূরণে ট্রাম্প বাধাগ্রস্ত হতে পারেন। এমনকি তাকে কংগ্রেসের তদন্তের মুখেও পড়তে হতে পারে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিনেটের রিপাবলিকান নেতারা এমন একটি যুদ্ধের ওপর নজরদারি করতে অস্বীকার করছেন, যাতে প্রতি সপ্তাহে শত শত কোটি ডলার খরচ হচ্ছে যা বিস্ময়কর।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ২৮ ফেব্রুয়ারির যৌথ হামলাকে প্রয়োজনীয় দাবি করে ট্রাম্প বলেছেন, ইসরাইলসহ তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের সম্মিলিত আত্মরক্ষার জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে, ডেমোক্র্যাটরা এ যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে এটিকে বেআইনি এবং নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তবে ৬০ দিনের সময়সীমা পার হয়ে গেলেও ট্রাম্পের সামনে তিনটি বিকল্প থাকবে, কংগ্রেসের অনুমোদন চাওয়া, সেনা প্রত্যাহার শুরু অথবা নিরাপদ প্রত্যাহারের জন্য সীমিত ৩০ দিনের সময়সীমা বাড়ানো। তবে, এ বর্ধিত সময়সীমা যুদ্ধ অব্যাহত রাখার অনুমতি দেয় না।
মহান মে দিবস আজ
দক্ষিণ সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ বাড়ালো জাতিসংঘ
দুপুরের আগে ঢাকাসহ ১৭ জেলায় ঝড়-বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা
শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা আজ