নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার আবাসিক এলাকা নয়াপুরে প্রস্তাবিত মশার কয়েল কারখানার পরিবেশগত ছাড়পত্র পুনরায় দেওয়ার উদ্যোগের অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক শাহনাজ মুন্নী। তার অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তরের ৯টি তদন্তে এলাকাটি আবাসিক হিসেবে প্রমাণিত হওয়ার পর কারখানার অবস্থানগত ছাড়পত্র বাতিল করা হলেও আগামী ছয় আগস্ট আপিল কর্তৃপক্ষের শুনানির মাধ্যমে আবারও ছাড়পত্র দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন শাহনাজ মুন্নী। সাংবাদিক সম্মেলনে নয়াপুর গ্রামের মসজিদের পক্ষ থেকে মো. মাইনুদ্দিন মোল্লা, মন্দিরের পক্ষ থেকে সাধন সাহা এবং এলাকাবাসীর পক্ষে কবি ও পরিবেশসংগ্রামী শাহেদ কায়েস উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে শাহনাজ মুন্নী বলেন, ৩০ বছর সাংবাদিক হিসেবে অন্যের সংবাদ সম্মেলন কাভার করলেও এবার পরিবেশ সন্ত্রাসের শিকার হয়ে নিজেকেই সাংবাদিক সম্মেলন করতে হচ্ছে। তিনি জানান, সোনারগাঁয়ের নয়াপুর গ্রামের মসজিদ, মন্দির ও একটি মহিলা মাদ্রাসাসংলগ্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ‘শারমীন কেমিক্যাল ওয়ার্কস’ নামে একটি মশার কয়েল কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কারখানাটি চালু হলে বিষাক্ত রাসায়নিক দূষণে এলাকায় মানুষের বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়বে।
শাহনাজ মুন্নী জানান, এলাকাবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান ও শাখা কার্যালয় থেকে মোট ৯ বার তদন্ত চালানো হয়। প্রতিটি তদন্তেই এলাকাটি নিবিড় আবাসিক হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী সেখানে কয়েল কারখানা স্থাপন করা যাবে না বলে অভিমত দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরিবেশ অধিদপ্তর কারখানাটির অবস্থানগত ছাড়পত্র বাতিল করে। তবে আপিলের মাধ্যমে কারখানা কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে পুনরায় ছাড়পত্র জোগাড় করেছিলো বলে তিনি দাবি করেন। পরে তদন্তের মাধ্যমে সেই আপিলে প্রাপ্ত ছাড়পত্রও বাতিল করা হয়, কিন্তু বর্তমানে আবারও আপিল শুনানির মাধ্যমে অনুমোদনের পাঁয়তারা চলছে।
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শাহনাজ মুন্নী বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ৯ বারের বিস্তারিত তদন্তের সিদ্ধান্ত মাত্র ১৫ মিনিটের এক শুনানিতে কীভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব? প্রভাবশালী মহলগুলো এ ধরনের আপিল ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে পরিবেশগত ছাড়পত্র হাতিয়ে নিচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, একই এলাকায় এর আগে ‘ইমাম পোলট্রি ফার্ম’ পরিবেশ আইনের আওতায় বন্ধ করা হয়েছিলো এবং বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সেই আইনি প্রেক্ষাপটে সেখানে আরও মারাত্মক দূষণকারী কয়েল কারখানা স্থাপনের যেকোনো উদ্যোগ আদালতের সিদ্ধান্তের সরাসরি পরিপন্থী।
সাংবাদিক সম্মেলন থেকে প্রস্তাবিত কয়েল কারখানাটিকে পুনরায় পরিবেশগত ছাড়পত্র না দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ সংশোধন করে পরিবেশ অধিদপ্তরকে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা, মন্ত্রণালয়ের আপিল বোর্ড বাতিল করে পরিবেশ আদালতে আপিলের বিধান চালু করা এবং ‘শারমীন কেমিক্যাল ওয়ার্কস’-এর ছাড়পত্র আবেদন চূড়ান্তভাবে নাকচ করার আহবান জানান বক্তারা।
