দেশে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে হামলা, ভাংচুর ও সহিংসতার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে নিউইয়র্কে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 'রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ' শীর্ষক এই সমাবেশ থেকে ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটতে পারে, তার জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নসহ কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানানো হয়।
প্রবাসী নাগরিক সমাজ নিউইয়র্কের আয়োজনে এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ। সাংবাদিক ও নাট্যকার তোফাজ্জল লিটনের সঞ্চালনায় আয়োজিত সমাবেশ থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ও সাংবাদিক মুজাহিদ আনসারী।
শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় আয়োজিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে দুই শতাধিক সর্বস্তরের প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে নানান স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে উপস্থিত হন নানা পেশা আর ধর্মের মানুষ। এই প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে উচ্চারিত হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের দাবি।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, যেকোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার অর্থই হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তিমূলে আঘাত। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার সময়, দেশজুড়ে যে সহিংসতা, পূজামণ্ডপে ভাংচুর ও হামলার ঘটনা ঘটেছে, তার তীব্র নিন্দা জানানো হয় সমাবেশ থেকে। এই সমাবেশ থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঁচটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে হামলা, প্রতিমা ভাংচুর, বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নি সংযোগে ক্ষতিগ্রস্তদের
পুনর্বাসন ,ক্ষতিপূরণ ও পূর্ণ নিরাপত্তার জোড় দাবি।
২. দেশে এবারসহ অতীতের সকল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
আরও পড়ুন: একাট্টা নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ, শাহবাগে পাঁচ দফা দাবি
৪. অসাম্প্রদায়িক চেতনায় মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতির প্রথম সংবিধান '৭২ এর সংবিধানের ফিরে যেতে হবে।
৫. মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক ঠিকানা এর প্রধান সম্পাদক এম ফজলুর রহমান, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মেরাজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিল্পী তাজুল ইমাম, অধ্যাপক নবেন্দু দত্ত, অধ্যাপিকা হোসনে আরা, গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক সৈয়দ জাকির আহমেদ রনি, সাংবাদিক ও ছড়াকার সঞ্জীবন কুমার, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া, ছড়াকার মনজুর কাদের প্রমুখ।
এদিকে, জ্যাকসন হাইটসের ওম শক্তি মন্দিরে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নিউইয়র্কের হিন্দু কমিউনিটি। সেখানে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে, বক্তারা তীব্র প্রতিবাদ জানান। আর এসব ঘটনা ঠেকাতে জোরালো পদক্ষেপ দাবি করেন তারা।
