১২ ব্যাংকের আগ্রাসী ঋণ বিতরণ, ঝুঁকিতে গ্রাহকের আমানত

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৫, ০১:১৫ পিএম

সীমার অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ করে সঞ্চয়কারীদের আমানত ঝুঁকিতে ফেলেছে ১২ বাণিজ্যিক ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, এর মধ্যে রয়েছে প্রচলিত ধারার পাঁচটি ও ইসলামী ঘরানার সাতটি প্রতিষ্ঠান। এতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে একীভূত হতে যাওয়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। আর প্রচলিত ধারার মধ্যে শীর্ষে ন্যাশনাল ব্যাংক। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এমন অবস্থার পরিবর্তন না হলে ঝুঁকি বাড়বে গ্রাহকদের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলো আমানতের সর্বোচ্চ ৮৭ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু গত আগস্ট শেষে সাতটি ইসলামী ও পাঁচটি প্রচলিত ধারার ব্যাংক এই নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করেছে। এমনকি সাতটি ব্যাংক আমানতের চেয়েও বেশি ঋণ দিয়েছে। অর্থাৎ তাদের এডিআর/আইডিআর সেঞ্চুরি ছুঁয়েছে।

প্রচলিত ধারার ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সীমা লঙ্ঘন করেছে ন্যাশনাল ব্যাংক, যার এডিআর দাঁড়িয়েছে ১১৯.১৪ শতাংশ। এরপর রয়েছে এবি ব্যাংক, যার মোট এডিআর ৯৬ শতাংশ। আর তাদের ইসলামিক উইন্ডোতে এই অনুপাত ৯৪.৭১ শতাংশ। প্রিমিয়ার ব্যাংকের এডিআর ৮৮.৮২ শতাংশ হলেও তাদের ইসলামিক উইন্ডো সীমা ভেঙে ঋণ দিয়েছে ৯৬.২০ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের এডিআর দাঁড়িয়েছে ৮৭.০৩ শতাংশ। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ইসলামি উইন্ডোতে ঋণ বিতরণ হয়েছে ১২৯.২৫ শতাংশ, যদিও প্রচলিত শাখায় এ হার মাত্র ৪৯.৮২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী একাত্তরকে বলেন, এডিআর সাধারণত দুইভাবে অতিক্রম করে। কোনো কোনো ব্যাংক অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ করায়, আবার অনেক ক্ষেত্রে ঋণ বিতরণ না বাড়লেও গ্রাহকরা আমানত তুলে নিলে এডিআর সীমা লঙ্ঘন করে। বর্তমানের যেসব ব্যাংক এডিআর সীমার ওপরে আছে তাদের অধিকাংশই দুর্বল ব্যাংক। তারা অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ না করলেও এই সীমা লঙ্ঘন হয়েছে। এজন্য আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সব ব্যাংকের সঙ্গে বসেছি। তাদের সীমার মধ্যে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে পরিকল্পনা যাওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা সীমার মধ্যে চলে আসবে।

ইসলামী শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সীমা লঙ্ঘন করেছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, যার আইডিআর এখন ১৩৫.০৮ শতাংশ। এরপর সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক (১৩৪.১৫ শতাংশ) এবং এক্সিম ব্যাংক (১২৯.৭৬ শতাংশ)। এছাড়া ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকও এডিআর/আইডিআর সীমা অতিক্রম করেছে।

বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন একাত্তরকে বলেন, যেসব ব্যাংকের এডিআর খারাপ তাদের অন্য সূচকগুলোতেও খারাপ অবস্থায় থাকার কথা। বিশেষ করে দুর্বল ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ বিতরণ না করলেও আগের ঋণ খেলাপি হওয়ায় তাদের এই খারাপ অবস্থা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ এজন্য তারা অতিরিক্ত প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। এতে মূলধন ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোকে ফর্ম কারেক্টিভ অ্যাকশন-পিসিএতে নিয়ে আসা উচিত। এরপরও যদি তাদের ঠিক করা না  হয়, তাহলে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী যা করলে তাদের জন্য ভালো এবং গ্রাহকদের অধিকার নিশ্চিত হবে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানায়, এডিআর সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে। এই সীমা অতিক্রম করলে ব্যাংকের তারল্য ঝুঁকি বাড়ে এবং আমানতকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। ইতিমধ্যে কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে হিমশিম খাচ্ছে, যা এই ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যমতে, চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৭৬ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা। একই সময়ে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১৭ লাখ ১৮ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা মোট আমানতের ৭৮.৯৫ শতাংশ। 

এছাড়া রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল ও বিভিন্ন রি-ফাইন্যান্স স্কিম থেকে অতিরিক্ত ৫৬ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে ব্যাংকগুলো।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অতি উচ্চ এডিআর ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে এবং আমানতকারীদের টাকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এজন্য তারা দ্রুত এডিআর সমন্বয় ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

 

একাত্তর/এসি
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার (ফরেক্স) মোট বা গ্রস রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ৩৭ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্যাংকটির বর্তমান নির্বাহী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান।
দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড অব ডিরেক্টরস) সব সদস্যের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর