হাইব্রিড তালিকাভুক্ত গাড়ি হঠাৎ নন-হাইব্রিড তালিকায় ফেলে উচ্চহারে শুল্ক ও জরিমানা আদায় করেছে শুল্ক বিভাগ।
এতে বিপাকে পড়া রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকরকদের অভিযোগ, নতুন শ্রেণিবিন্যাসের আগে চার বছর ধরেই শুল্ক রেয়াত পেলেও সম্প্রতি প্রজ্ঞাপন ছাড়াই বলা হচ্ছে, মাইল্ড গাড়ি সম্পূর্ণ হাইব্রিড নয়। এর শুল্ক রেয়াত বাতিল করে মিথ্যা ঘোষণার অভিযোগ দিয়ে জরিমানা করা হচ্ছে। যা অনৈতিক এবং কর্মকর্তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার বলে আখ্যা দিয়েছেন আমদানিকারকরা। পরিবেশবান্ধব এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী বলে বিশ্বে হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা বাড়ছে, ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশেও।
তিন ধরনের গাড়ির মধ্যে ফুল হাইব্রিড চলে লিথিয়াম ব্যাটারিতে। প্লাগ ইন গাড়ি চলে ব্যাটারি ও বিদ্যুতে আর মাইল্ড হাইব্রিড ব্যাটারি ও জ্বালানি তেলে।
কার হাউস ইমপোর্টস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অভিক আনোয়ার একাত্তরকে বলেন, সম্প্রতি কোনো এসআরও ছাড়া মাইল হাইব্রিড গাড়ি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। একটা এসআরও বা সঠিক নির্দেশনা দিয়ে যদি কাস্টমস বলে দিতো, যে আনা যাবে না বা আনা নিষেধ তাহলে ওভাবে কাজ করা যেত।
তিনি বলেন, প্রত্যেকটি ভ্যারিয়েন্টের মাইল্ড হাইব্রিড আছে, নরমাল হাইব্রিড আছে, প্লাগইনও আছে।
এসব গাড়ি পরিবেশবান্ধব এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী বলে জাতীয় সংসদের পাশ হওয়া অর্থবিল মেনে চার বছর ধরেই শুল্ক রেয়াতে আমদানি হতো।
সম্প্রতি সরকারি কোনো প্রজ্ঞাপন ছাড়াই মাইল্ড হাইব্রিড অনেক গাড়িতে জরিমানা করেছে শুল্ক কর্মকর্তারা।
অটো মিউজিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উল্ল্যাহ ডন বলেন, আমিতো মিথ্য ঘোষণা দেইনি। আপনি আমাকে তখন জরিমানা করবেন যখন রাজস্ব বোর্ডের বিদ্যমান আইন বা এসআরও’র বাইরে গিয়ে গাড়ি আনি। আমিতো মাইল্ড হাইব্রিড এসআরও মেনেই এনেছি। চার বছর ধরে সেই সুযোগতো দিয়েছেন।
আমদানিকারকরা বলছেন, গেলো ৪ বছরে মাইল্ড হাইব্রিড পাঁচশ’ গাড়ি শুল্ক রেয়াতেই আমদানি হয়েছে। হঠাৎ শুল্ক কর্মকর্তারা ওয়ার্ল্ড কাস্টম অর্গানাইজেশন রুলসের দোহাই দিয়ে, এসআরও ছাড়াই মাইল্ড গাড়িতে আমদানি মুল্যের দু্ইশ’ থেকে চারশ’ শতাংশ জরিমানা করছেন। আদায় করা জরিমানা থেকে ৪০ শতাংশ নগদ প্রণোদনাও পাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্মকর্তা।
বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সাবেক মহাসচিব মাহাবুবুল হক চৌধুরী বাবর বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছে ওয়ার্ল্ড কাস্টম অর্গানাইজেশন রুলস আসে না। আসে শুধু রাজস্ব বোর্ডের কাছে। যতক্ষণ পর্যন্ত রাজস্ব বোর্ড প্রজ্ঞাপন বা এসআরও জারি না করবে ততক্ষণ আমদানিকারক বা ব্যবসায়ীদের জানার কোনো সুযোগ নেই।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক বিভাগের সাবেক আলী আহমদ বলছেন, বাংলাদেশসহ একাধিক দেশে কোর্টের আদেশেই পণ্য আমদানির পর কোনো প্রজ্ঞাপন ছাড়া অতিরিক্ত কর আরোপ বা জরিমানা আদায় অনৈতিক এবং বেআইনি।
একাত্তরকে তিনি বলেন, বছরের মাঝামাঝি হঠাৎ করে শুল্ক বাড়ানো যাবে না। যদি সংজ্ঞায় যদি কোনো পরিবর্তন আসে যেটা সরকার জানতো না। তাহলে, আমদানিকারকেদর, ব্যবসায়ীদের, জাতিকে গেজেট নোটিফিকেশন করে খবরের কাগজের মাধ্যমে জানাতে হবে।
বারভিডা বলছে, শুল্ক জটিলতায় ঢাকাইসিডি এবং চট্টগ্রাম বন্দরে ৫০টির মতো মাইল্ড হাইব্রিড গাড়ি খালাস হচ্ছে না। এর আগে অনেক গাড়ি রপ্তানিকারককে ফেরতও পাঠিয়েছেন আমদানিকারকরা।
