গোটা বিশ্বের লাখো কোটি মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম পানি হচ্ছে জমজম কূপের পানি। কাবাঘরের কাছে হাজরে আসওয়াদের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে আছে জমজম কূপ। মহান আল্লাহর যত অনুপম নিদর্শন আছে, তার মধ্যে জমজম কূপ অন্যতম। এ পানি অসম্ভব স্বচ্ছ, স্বাদু ও বরকতময়।
আর সেই পানি রাজধানীকে বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। শুধু তাই নয় এই সুযোগে পবিত্র জমজম কূপের পানি, রিয়াজুল জান্নাহ নামে জায়নামাজ ও সৌদির আতরের নামে নকল পণ্য বিক্রি করছে একটি অসাধু চক্র। তাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর।
অনলাইনে পবিত্র জমজম কূপের পানি এবং রিয়াজুল জান্নাহ নামে জায়নামাজ বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখে গেলো চার জানুয়ারি রাজধানীতে অভিযান করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সেদিনের অভিযানে গিয়ে কী কী অসংগতি পাওয়া গিয়েছিলো, রোববার মতবিনিময় সভায় তারই বর্ণনা দিলেন অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, মুসলমানদের কাছে পবিত্র সৌদি আরবের জমজম কূপের পানি দেশে বিক্রি আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু এর পরেও এসব পবিত্র পণ্য দেদারচ্ছে বিক্রি করা হচ্ছিলো। সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মার্কেট এলাকায় এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন অন্তত আড়াইশ’ আতর-টুপি-গোলাপজল ব্যবসায়ী। লিটার প্রতি অন্তত সাড়ে তিন হাজার টাকায় বিক্রি করছেন জমজমের পানি। শুধু জমজম কূপের পানিই নয়, আরও বিক্রি হচ্ছে রিয়াজুল জান্নাহ নামে জায়নামাজ, খেজুর ও আতর।
মতবিনিময় সভায় ভোক্তা অধিদপ্তরের কাছে পবিত্র জমজম কূপের পানি, রিয়াজুল জান্নাহ নামে জায়নামাজ, আতর ও খেজুর বিক্রির বিষয়ে নির্দেশনা চান ব্যবসায়ীরা। ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, ভোক্তাদের না ঠকিয়ে কীভাবে ব্যবসা করা যায়, তা ব্যবসায়ীদেরকেই ঠিক করতে হবে।
সভায় ক্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, জায়নামাজ, আতর ও খেজুরের মতো পণ্যের ব্যবসা করা যাবে। কিন্তু ক্রেতার সাথে প্রতারণা করা যাবে না। রমজানে কেউ যেন বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে সেদিকেও ভোক্তা অধিদপ্তরকে মনোযোগী হবার পরামর্শ দেন ক্যাবের এই নেতা।
জীবনযাত্রার খরচ সহনীয় রাখার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছে নতুন মুদ্রানীতি