মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনেও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পশু কোরবানি চলছে। শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন অলিগলিতে পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুত করার ব্যস্ততা দেখা গেছে। বিশেষ করে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কসাই ও মৌসুমি কসাইদের কর্মব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের দিনের অতিরিক্ত ভিড়, কসাই সংকট এবং পারিবারিক নানা ব্যস্ততা এড়াতে অনেকেই দ্বিতীয় দিনকে বেছে নিয়েছেন কোরবানির জন্য।
ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী, কোরবানির পশু জবাই করার জন্য তিন দিন সময় থাকে। হিজরি জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ পর্যন্ত সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানি করার বিধান রয়েছে। সেই অনুযায়ী, ধর্মীয় বিধান মেনে আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত চলবে পশু কোরবানি।
শুক্রবার অথবা ঈদের দ্বিতীয় দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই শুরু হয়েছে পশু জবাই ও মাংস কাটার দৃশ্য। পুরান ঢাকার অলিগলিতে চলছে কসাইদের ব্যস্ত সময়।
দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দেওয়ার কারণ হিসেবে অনেকেই বলছেন, ঈদের দিন অতিরিক্ত চাপ থাকে। আত্মীয়স্বজনদের আনাগোনা এবং সময়মতো কসাই না পাওয়ার কারণে তারা দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে কিছুটা স্বস্তিতে ও নিখুঁতভাবে মাংস প্রস্তুত করা যায়।
তাছাড়া, পুরান ঢাকার অনেক পরিবারে এখনো পুরনো ঐতিহ্য ধরে রেখে ঈদের পরের দিন কোরবানি দেওয়ার একটি বিশেষ প্রচলন রয়েছে। বংশানুক্রমিক ভাবেই তারা এই নিয়ম মেনে আসছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ঈদের দিন কসাই পাওয়া যেমন ভাগ্যের ব্যাপার, তেমনি চারদিকে একটা তাড়াহুড়ো থাকে। আজ শান্তিমতো কোরবানি দিতে পারছি, কসাইও পাওয়া গেছে সহজে।
এদিকে কসাই ও মৌসুমি কসাইরা জানান, প্রথম দিনের তুলনায় আজ কাজের চাপ কিছুটা কমলেও, তাদের ব্যস্ততা এখনো কাটেনি। একের পর এক পশুর মাংস প্রস্তুত করতে হচ্ছে তাদের।
ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী, আগামীকাল সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত এই কোরবানি করার সুযোগ পাবেন মুসলিম সম্প্রদায়।
