মজুরি বৃদ্ধির দাবীতে চা শ্রমিক আন্দোলনের ফসল হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণার পরপরই পাল্টে গেছে চা বাগানের দৃশ্যপট।
সোমবার (২৯ আগস্ট) থেকে মৌলভীবাজার জেলার ৯৩টি চা বাগানে উৎসবমূখর পরিবেশে কাজ শুরু করেছেন চা শ্রমিকরা। সকাল থেকে বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা গেছে শ্রমিকরা পাতা তোলায় ব্যস্ত।
এদিকে টানা ২০ দিন পর পুরোপুরি কাজে ফিরতে পেরে সাধারণ শ্রমিকরাও খুশি। তবে তারা বলছেন তাদের দাবী ছিলো ৩০০ টাকা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ১৭০ টাকা দিয়ে সংসার চালানো খুবই কঠিন। তবুও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনাকে স্বাগত জানিয়ে তারা কাজে ফিরেছেন। তবে আসন্ন দুর্গাপূজার আগেই তাদের বকেয়াসহ অন্যান্য মজুরি পরিশোধের জন্য দাবি জানিয়েছেন।
অপরদিকে ২০ দিন বিরতির পর কাজে ফিরেছে হবিগঞ্জের ২৪টি চা বাগানের শ্রমিকরা। সোমবার (২৯ আগস্ট) সকাল আটটা থেকে তারা কাজে যোগ দিয়েছেন। চালু হয়েছে ফ্যাক্টরিগুলো।
গত ৯ আগস্ট থেকে ১২০ থেকে ৩০০ টাকা মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করে আসছিলেন চা শ্রমিকরা। মহাসড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে তারা।
স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কয়েকদফা বৈঠক হলেও তা ফলপ্রসূ না হওয়ায় গত শনিবার চা বাগান মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করে দেন। এ খবর জানার পর রোববার সাপ্তাহিক ছুটির থাকলেও অনেক বাগানে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন।
আরও পড়ুন: সাবেক ক্রিকেটার আকরাম খানের গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট থেকে ৩০০ টাকা মজুরি বৃদ্ধির দাবীতে সারাদেশের মতো মৌলভীবাজার জেলার সবকটি চা বাগানে প্রথমে দুই ঘন্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন চা শ্রমিকরা। কিন্তু তাদের দাবী আদায় না হওয়ায় ১৩ আগস্ট থেকে লাগাতার কর্মবিরতিতে নামেন শ্রমিকরা। পরবর্তীতে তাদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে গত ২১ আগস্ট রাতে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের সাথে এক বৈঠকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী আসন্ন দূর্গাপুজার আগে নতুন মজুরি ঘোষনা করবেন। তার আগ পর্যন্ত চলমান ১২০ টাকা মজুরী রেখেই কাজে যোগ দেয়ার অনুরোধ করা হয় চা শ্রমিকদের। সেই প্রস্তাব মেনে প্রথমে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও একদিন পর আবারও কর্মবিরতিতে নামেন শ্রমিকরা।
অবশেষে শনিবার (২৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনার মধ্যে দিয়ে অবসান হলো চা শ্রমিকদের ইতিহাসে টানা ১৯ দিনের আন্দোলনের।
একাত্তর/এসএ/এসি
