মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে একজন রোহিঙ্গাও যেন বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে, সেজন্য সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে সতর্ক করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এখনই সীমান্তে সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে না।
এদিকে মিয়ানমার বলছে, বাংলাদেশ সীমান্তে মর্টার শেল বিস্ফোরণ দুর্ঘটনামাত্র, যা আরকান আর্মির কাজ বলে দাবি করেছে মিয়ানমার।
গেলো এক মাসে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে চারবার তলব করেছে ঢাকা। তাকে ডেকে বাংলাদেশ জানতে চেয়েছে সীমান্ত এলাকায় গোলাবর্ষণ মিয়ানমার ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে, নাকি দুর্ঘটনা?
রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতসহ দুই সদস্যের প্রতিনিধিদল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তলবে হাজির হন।
এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অনু বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক নাজমুল হুদার সাথে আধা ঘণ্টা বৈঠক করেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত।
এই বৈঠক থেকে বেরিয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত গণমাধ্যমের সামনে কোন কথাই বলেননি। তবে বৈঠকে ঢাকাকে জানিয়েছেন, সীমান্তে গোলাবর্ষণের হতাহতের ঘটনা দুর্ঘটনা মাত্র।
এদিকে, সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে করনীয় ঠিক করতে বৈঠক করে স্বরাষ্ট্র-পররাষ্ট্রসহ সরকারের সব গোয়েন্দা এজেন্সি এবং বিজিবি প্রতিনিধি।
দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাবারুদ ছুটে আসার সঠিক কারণ জানা নেই। তবে দুদেশের পতাকা বৈঠকে এ বিষয়ে জানা যাবে।
তিনি জানান, বাংলাদেশের সীমানায় মিয়ানমারের হামলার বিষয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে ঢাকা। আর এ বিষয়ে জাতিসংঘে অভিযোগ জানানোর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার।
তবে মিয়ানমার থেকে আর একজন রোহিঙ্গাকেও বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব বলছেন, বিষয়টি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ। তবে তা যেন কোন ভাবেই আমাদের ঘাড়ে না আসে সেই সতর্কতাই দেয়া হচ্ছে।

খুরশেদ আলম জানান, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে প্রতিবাদ লিপি দিয়েছি। সীমান্তে যেসব ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য তাদের ডেকে সতর্ক করেছি।
তিনি বলেন, মিয়ানমারে কী হচ্ছে, সেটা দেখা আমাদের দায়িত্ব না। সেটা দেখার দায়িত্ব তাদের। মিয়ানমারের গোলা আমাদের এখানে যেন না পড়ে, সেটা বলা হয়েছে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলবের বিষয়ে খুরশেদ আলম বলেন, আমরা তাদের বলেছি, আপনারা আপনাদের সমস্যার সমাধান করুন, যাতে আমাদের এখানে কোনো রক্তারক্তি না হয়।
তিনি বলেন, আমরা সব এজেন্সির সঙ্গে সভাও করেছি। বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে সজাগ থাকতে নির্দেশনা দিয়েছি। কোনো রোহিঙ্গা যেন দেশে না ঢোকে সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলেছি।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে নিয়মমাফিক যা করা যায়, আমরা দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে সেটা করছি। আমাদের কোনো দুর্বলতা নেই, শক্ত অবস্থান থেকেই তাদের সতর্ক করেছি।
ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের তেমন কোনো জবাব নেই। উনি বলেছেন, এই তথ্যগুলো উনি নেপিদোকে জানাবেন।
উনার একটি বক্তব্য আছে, এটা হয়তো আরাকান আর্মির গোলাগুলি হতে পারে। তবে আমাদের বক্তব্য ছিলো, আপনাদের অভ্যন্তরে যা ঘটছে, সেটা আপনাদের দায়িত্ব। আমাদের এপারে যেন কিছু না হয়। সেটা আপনারা নিশ্চিত করবেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিবের বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্তে সেনা মোতায়েনের কথা সরকার এ মুহূর্তে ভাবছে না।
আরও পড়ুন: সক্ষমতা হলে ৩০০ আসনেই ইভিএম: ইসি আলমগীর
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে মিয়ানমারের ছোড়া মর্টার শেল বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্য রেখায় পড়ে এক রোহিঙ্গা কিশোরের মৃত্যু এবং আরও কয়েকজন আহত হয়।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম এলাকার জনবসতিতে দুটি মর্টার শেল এসে পড়ে।
এতে কেউ হতাহত না হলেও সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।
একাত্তর/এসি
