বসন্ত উৎসব, ভালবাসা দিবস আর মাতৃভাষা দিবস- এই তিনটি দিবসকে ঘিরে এবার লাভের আশায় আছেন মানিকগঞ্জের ফুল চাষিরা।
করোনা মহামারীতে দুই বছর লোকসান হলেও এবার সেই ক্ষতি পোষাতে বেশি জমিতে ফুল চাষ করেছেন তারা। এবার শুধু ফেব্রুয়ারিতেই দুই কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে।
যশোর-ঝিনাইদহ’র পর ব্যাপক ফুলের চাষ হয় মানিকগঞ্জে। এবারও গোলাপ, গ্যালোডিওলাস, জারবেরা, রজনীগন্ধা, গাঁদা, জিপসি, চন্দ্রমল্লিকায় ভরে উঠেছে ফুল চাষিদের জমি।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার তিন ইউনিয়নে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ। এখানে গ্লাডিওলাস ফুল বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ হয় চন্দ্রমল্লিকার। শতাধিক প্রজাতির চন্দ্রমল্লিকা রয়েছে। আর এমন কোনো রঙ নেই যা চন্দ্রমল্লিকার প্রজাতিতে নেই।
শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকাতে চাষ হচ্ছে জারবেরা। দশের বেশি রঙের এই ফুল চাষ করে লাভের মুখ দেখেছেন অনেক চাষিই।
দু’বছর কোনো উৎসব ছিলো না, তাই ফুল বেচতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা। এবার পহেলা ফাল্গুন, ভালবাসা দিবস আর ভাষা দিবসকে সামনে রেখে আশায় বুক বেঁধেছেন তারা।
মানিকগঞ্জের ফুল ব্যবসায়ীরা বলছেন, সারা বছরই কমবেশি ফুলের চাহিদা থাকে। তবে বসন্ত উৎসব, ভালবাসা দিবস আর ভাষা দিবসের মাস ফেব্রুয়ারিতে এই চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
তাই চাষিদের কাছে আগাম ফুলের মজুদ রেখেছেন তারা। ক্রেতারাও আগেভাগেই ভিড় করছেন দোকানে। রাজধানীর ফুল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রচুর অর্ডারও আসছে এবার।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা জানান, এ বছর আগের চেয়ে বেশি জমিতে ফুল চাষ করেছেন চাষিরা। শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই মানিকগঞ্জে প্রায় দুই কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তারা।
শুধু পহেলা ফাল্গুন, মাতৃভাষা দিবস আর ভালবাসা দিবসে নয়, সারা বছরই যেন এসব ফুলের চাহিদা থাকে- এমন আশা ফুল চাষি ও ব্যবসায়ীদের।
একাত্তর/এসি
