গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বেপরোয়া গতির ডাম্প ট্রাকের চাপায় সাংবাদিক মিলনের মৃত্যুর ঘটনায় ঘাতক ট্রাকচালককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
সোমবার সকালে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-১ এবং র্যাব-১০ এর সদস্যরা।
গ্রেপ্তার আহাদ মিয়ার (২৬) বাড়ি গাজীপুরের কালিগঞ্জে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দুর্ঘটনার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন।
গত ৪ আগস্ট গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কোর্টবাজালিয়া বাজারে বেপরোয়া গতির বালুবোঝাই একটি ডাম্প ট্রাকের চাপায় প্রবীণ সাংবাদিক মঞ্জুর হোসেন মিলন (৫২) নিহত হন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে ট্রাকচালক আহাদ জানান, ঘটনার দিন সকালে তিনি বালুভর্তি ডাম্প ট্রাক নিয়ে কাপাসিয়া থেকে চাঁদপুর যাচ্ছিলেন। ট্রাকটিতে অতিরিক্ত ওজনের বালু বোঝাই থাকা সত্ত্বেও তিনি তাড়াতাড়ি পৌঁছানের জন্য বেপরোয়া গতিতে গাড়িটি চালাতে থাকেন।
সকাল সোয়া ৯টার দিকে সাংবাদিক মঞ্জুর হোসেন মিলন মোটরসাইকেলযোগে কাপাসিয়া যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকটি চাপা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকচালক ঘটনাস্থলে ট্রাকটি ফেলে পালিয়ে যান।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও জানান, তিনি গত সাত বছর ধরে মাহিন্দ্রা, পিকআপসহ বিভিন্ন ধরণের গাড়ি চালিয়ে আসছিলেন। তার মাঝারী যানবাহন চালানোর ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও ভারী যানবাহন চালানোর কোনও বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না।
এছাড়াও ট্রাকটির ধারণ ক্ষমতা আট টন হওয়া সত্ত্বেও তিনি আনুমানিক ১৪ টন ওজনের বালুবোঝাই করে গাড়িটি চালানোর কথা স্বীকার করেন।
আরও পড়ুন: অক্ষত বাইক, ট্রাকচাপায় সাংবাদিক হত্যা নিয়ে রহস্য
দুর্ঘটনার পর তিনি পালিয়ে কোর্টবাজারে আসেন এবং অটোযোগে কালিগঞ্জে চলে যান। পরে তিনি সেখান থেকে তার বাড়িতে যান এবং উক্ত দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে জানতে পারলে গ্রেপ্তার এড়াতে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে র্যাব।
একাত্তর/এসজে
