সিরাজগঞ্জে দুই গৃহবধূকে চরিত্রহীন আখ্যা দিয়ে সমাজচ্যুত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই গৃহবধূদের অভিযোগ, গ্রাম্য সালিশের পর টাকা না পেয়ে তাদের একঘরে করে রাখা হয়েছে। এমনকি গ্রাম থেকে পাহারা বসিয়ে তাদের ওপর নজরও রাখা হচ্ছে। তবে তাদের একজন কিছু টাকা দিলে তার শাস্তি কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার সপ্তাহ পার হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।
ঘটনাটি জেলার তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের গাবরগাড়ি গ্রামের।
নিপীড়নের শিকার ওই গৃহবধূরা জানান, অন্য পুরুষের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি এমন অভিযোগ তুলো সালিশ ডাকা হয়। সালিশে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে গ্রাম্য মাতব্বররা। জরিমানা না দিতে পারায় তাদের একঘরে করে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক নারী মাতব্বরদের হাতে ১০ হাজার টাকা দিলে তার শাস্তি কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।
তবে ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা ও গ্রাম প্রধান বুলুর সঙ্গে আগের শত্রুতার জেরে ধরে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই দুই নারী।
তাদের মধ্যে এক নারী গ্রাম প্রধান বুলুর ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুই বছর আগে যৌন হয়রানীর অভিযোগ এনেছিলেন। আরেক নারী দাবি, ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফার কথা মতো মূর্তির ব্যবসায় রাজি না হওয়ায় এ ধরণের ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
সরেজমিন, ওই গ্রামের দুই নারীকে এক সপ্তাহ যাবত সমাজচ্যুত করে রেখেছেন ওই গ্রামের ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে কিছু গ্রাম্য প্রধানরা। ওই নারীরা সমাজচ্যুত হওয়ার পর থেকে গ্রামের কারো সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না। পারছেন না স্বাচ্ছন্দ্যে কোনো বাড়িতে বা বাজারে যেতে। লোক লজ্জায় ঘরের কোণে বসে চোখের জল ফেলছেন।
ভুক্তভোগীদের পরিবার জানায়, চরিত্র নিয়ে অভিযোগ তুলে প্রায় দুই মাস আগে গাবরগাড়ি গ্রামের গ্রাম প্রধানদের কাছে এ রকম অভিযোগ করেন ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা। তারপর এ নিয়ে ওই গ্রামের মো. জয়নাল মণ্ডলের উঠানে একটি সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা, গ্রাম প্রধান আলতাব হোসেন, মোজাম্মেল হক মন্টু, জুয়েল রানা, শফিকুল, বুলু ও আজিজুল হকসহ প্রায় শতাধিক গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন। সেই সালিশে দুই নারীর চরিত্রের ত্রুটি আছে এমন অভিযোগ এনে তাদের কে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পাশাপাশি তাদের দুই জনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানার ঘোষণা দেন গ্রাম প্রধানরা।
কিন্তু তারা কেউই জরিমানার টাকা পরিশোধ করেনি। এতে ক্ষুব্ধ গ্রাম প্রধানরা অভিযোগ আনেন, তাদের অপমান করা হয়েছে। পরে এনিয়ে আবারও গত ১৬ সেপ্টেম্বর একই স্থানে গ্রাম্য সালিশ বসে। সেখানে জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় অভিযুক্ত দুই নারীর পরিবারকে সমাজচ্যুত ঘোষণা দিয়ে তাদের একঘরে করে রাখা হয়। এমনকি তাদের নজরদারি করতে পাহারাও বসান গ্রাম প্রধানরা।
এদিকে এরই মধ্যে ঘটনার তিন দিন পর অভিযুক্ত এক নারী ১০ হাজার টাকা গ্রাম প্রধানদের কাছে দিয়ে করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এতে সন্তুষ্ট হয়ে গ্রাম প্রধানরা ওই নারীর সমাজচ্যুতের আদেশ কিছুটা শিথিল করেন। কিন্তু অপর আরেক নারী জরিমানার টাকা না দেওয়ায় সমাজচ্যুতর নির্দেশ বহাল রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে গ্রাম প্রধান ও দুই নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, গ্রামের কিছু নিয়ম কানুন থাকে। সেটা না মানায় তাদের সমাজচ্যুত করা হয়েছে। তাদের একজন ক্ষমা চাওয়ায় তার সমাজচ্যুতের নির্দেশ শিথিল করা হয়েছে। অপর নারী গ্রাম প্রধানদের কাছে এসে ক্ষমা চাইলে তার সমাজচ্যুতের নির্দেশও শিথিল করা হবে।
এ বিষয়ে তালম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল খালেক বলেন, ঘটনাটি নিন্দনীয়। মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তাড়াশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূরে আলমকে পাঠানো হয়েছে। আর সমাজচ্যুতের বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য প্রধানদের বলা হয়েছে। তারা সতর্ক না হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোহেল রানা বলেন, ঘটনাটি জানার পর ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যকে দ্রুত সমাধান করার জন্য বলে দিয়েছি।
চাঁদপুরে স্বামী-স্ত্রী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১০