ক্রমেই অবনতি হচ্ছে উত্তরের বন্যা পরিস্থিতি। কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমারের পানি বিপদসীমার উপরে থাকায় পানিবন্দি প্রায় দুই লাখ মানুষ। যমুনার পানি বাড়ায় বগুড়ার ১৫টি এবং জামালপুরের ২৩টি ইউনিয়নের মানুষ আছেন দুর্ভোগে।
গাইবান্ধায় পানিবন্দি প্রায় ৩০ হাজার পরিবার। দুর্ভোগে আছেন লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলা পাড়ের বাসিন্দারাও।

কুড়িগ্রামে চারদিন ধরে ডুবে আছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট তাই কলার ভেলায় চড়ে চলাচল করছেন রৌমারীর চর এলাকার মানুষ। জেলার ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদীর পানি এখনো বইছে বিপদসীমার উপরে। এতে ছয় উপজেলার দুই লাখেরও বেশি মানুষ দুর্ভোগে আছে। বাড়িঘর, ফসলি জমি ডুবে গেছে। এমনকি পানি ঢুকে পড়ায় বন্ধ হয়ে গেছে ১৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান।
এই অবস্থায় জেলায় ২৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে বহু মানুষ। শিশু ও গর্ভবতী নারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

এছাড়া বগুড়ার সারিয়াকান্দি নদীতে যমুনা নদীর পানি বাড়ায় তিন উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের ৭৪ হাজার মানুষ বন্দি হয়ে আছেন। অনেকে ঘরে থাকতে না পেরে নৌকায় রাত কাটাচ্ছেন। ভুগছেন খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে। এদিকে পানিতে ডুবে উপজেলার ৩৩টি স্কুলের পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে।
গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার উপরে থাকায় নতুন করে আরো ৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে ১৮১টি আশ্রয় কেন্দ্র।

অন্যদিকে জামালপুরে পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে মেলান্দহ-মাহমুদপুর সড়ক যোগাযোগ। দেড়শ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে ৭ হাজার হেক্টর ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট।
লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলায় পানি বাড়ায় তৃতীয় দফা বন্যার শিকার তিস্তা নদী পাড়ের মানুষ। জেলার পাঁচ উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের ২৪ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি।

নেত্রকোণায় বৃষ্টি কমায় অন্যান্য নদীর পানি কমলেও উব্দাখালী নদীর পানি কলমাকান্দা পয়েন্টে এখনো বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের সাতটি জেলা বন্যায় আক্রান্ত। সিলেটে ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সেখানকার অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি পাঁচটি পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবছে কক্সবাজার শহর, জনদুর্ভোগ চরমে