ওপরের জমাট চিনির আবরণ। ভেতরের পুরোটাই দুধের নরম ছানা। চারকোনা ছোট ছোট টুকরা মিষ্টি। মুখে দিলে মিষ্টির সঙ্গে হালকা এলাচেরও স্বাদ ধরা দেয়। ছানা থেকে তৈরি বলে এই মিষ্টান্নের নাম ছানামুখী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই মিষ্টান্ন জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ডিপিডিটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছানামুখী জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার বিষয়টি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনকে নিশ্চিত করেছে। ডিপিডিটিতে ছানামুখীর জিআই নম্বর ৪১।
ভৌগলিক নির্দেশক (জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেশন- জিআই) হচ্ছে একটি প্রতীক বা চিহ্ন, যা পণ্য ও সেবার উৎস, গুণাগুণ ও সুনাম ধারণ ও প্রচার করে।
কোনো দেশের আবহাওয়া ও পরিবেশ যদি কোনো পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব রাখে, সেই দেশের সংস্কৃতির সাথে যদি বিষয়টি সম্পর্কিত হয়, তাহলে সেটাকে সে দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান পেটেন্ট ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেড মার্কস অধিদপ্তর জিআই নিবন্ধন দেয়। ২০১৩ সালে বাংলাদেশে এ সংক্রান্ত আইন এবং ২০১৫ সালে বিধিমালা হয়।
জেলা তথ্য বাতায়নে পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে উল্লেখ আছে ছানামুখীর নাম। সেখানে বলা হয়েছে, ছানামুখীর উৎপত্তি ব্রিটিশ রাজত্বকালে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। এক কেজি ছানামুখী তৈরিতে সাত-আট লিটার গরুর দুধ লাগে।
লোকমুখে প্রচলিত আছে, এই মিষ্টি যিনি প্রথম তৈরি করেন নাম মহাদেব পাঁড়ে। যার বাড়ি ছিলো ভারতের বেনারসে। বড় ভাই দুর্গাপ্রসাদের হাত ধরে প্রায় শতবর্ষ আগে তিনি কলকাতায় আসেন। বড় ভাইয়ের মিষ্টির দোকানে কাজ শুরু করেন মহাদেব। দুর্গাপ্রসাদের মৃত্যুর পর আশ্রয়হীন হয়ে মহাদেব ঘুরতে ঘুরতে একসময় চলে আসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে। বর্তমান জেলা শহরের মেড্ডায় তখন শিবরাম মোদকের একটি মিষ্টির দোকান ছিলো। তিনি নিজের দোকানে মহাদেবকে আশ্রয় দেন। মৃত্যুর সময় শিবরাম মিষ্টির দোকানটি মহাদেবকে দিয়ে যান। মহাদেব দুটি মিষ্টি বানাতেন। একটি লেডিকেনি, অন্যটি ছানামুখী।
মধুপুরের আনারস পেলো জিআই সনদ