এইচএসসি পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে পাস করেছে পটুয়াখালীর সাগর। কিন্তু তার বাড়িতে কোন আনন্দ নেই। বরং ছেলের পাসের খবর উস্কে দিয়েছে পরিবারের শোক। পরিবার, সহপাঠী ও এলাকাবাসী বলছেন, কেবল ন্যায় বিচারই পারে তাদের শোক কমাতে।
এইচএসসির ফলাফল যেনো শোক নিয়ে এলো পটুয়াখালীর ডাকুয়া ইউনিয়নের পারডাকুয়া গ্রামে সাগরের বাড়িতে। সাগরের যে সাফল্যে দরিদ্র বাবা-মা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারতেন; সেই সাফল্যই এখন তাদের শোকের কারণ।
এবার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত হবার পর ঢাকায় বড় ভাই সুমন গাজীর বাসায় বেড়াতে যান সাগর। গত ৫ আগস্ট দুপুরে সরকার পতনের পর বিজয় মিছিল দেখতে গিয়ে উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। হাসপাতালে নেয়ার পথেই মৃত্যু হয় সাগরের। সেদিন রাতেই তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
তিন ভাইয়ের মধ্যে সাগর ছিলো সবার ছোট। উপজেলার উলানিয়া হাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া সাগর ছিলো দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তান।
উলানীয়া হাট স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক মো. ফয়েজ মিয়া জানান, অত্যন্ত মেধাবী ও বিনয়ী ছিলো সাগর। এছাড়া তার মধ্যে দেশপ্রেমও ছিলো।
ছেলেকে কেন হত্যা করা হলো এ প্রশ্ন রেখে বিচারের পাশাপাশি সরকারের সহযোগিতা চান নির্মাণ শ্রমিক বাবা সিরাজুল গাজী। বলেন, আমি আমার ছেলের হত্যার সাথে যারা জড়িত তাদের দ্রুত বিচার চাই।
সাগরের বাবা মো. সিরাজুল গাজী বলেন, সাগরের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী সাগরের কবরের পাশে ওড়ানো হয় জাতীয় পতাকা। সে মৃত্যুর আগে বলে গিয়েছিলো, যদি তার মৃত্যু হয়, সব সময় যেনো তার কবরের পাশে জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয়।
মা বলছেন, এই ফলাফলে ছেলে আনন্দে ভাসতো। এখন সেই ছেলে নেই তাই কোন আনন্দও নেই।
মা সাহিদা বেগম বলেন, আমার ঘর ভাঙা, কষ্ট করে টাকা জমিয়ে ছেলেদের পড়িয়েছি। ভেবেছি, ওরা যখন চাকরি করবে, আমার কষ্ট কমবে। এখন আমার কী হবে? এই রেজাল্ট দিয়ে আমি এখন কী করবো!
সহপাঠী, বন্ধু আর এলাকাবাসীর চাওয়া এই হত্যার ন্যায়বিচার।
সরকারের সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট, বক্তব্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: তারেক