চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে নিয়োগ ও ভর্তি বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের সই জাল করে মাস্টাররোলে লোক নিয়োগ এবং কম্পিউটার অপারেটর পদে বেতন তোলার অভিযোগে বিদ্যালয়ের আউটসোর্সিংয়ের অফিস সহায়ক শাহজামালকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে তাকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
এর আগে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীকে প্রধান করে গঠিত ওই কমিটিকে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে কমিটির প্রধান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিমের অফিস সহায়ক শাহজামালের ব্যক্তিগত কম্পিউটার জব্দ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই কম্পিউটারে সংরক্ষিত বিভিন্ন নথি যাচাই করতে গিয়ে প্রশ্ন ফাঁসের বাইরেও বিদ্যালয়ের নিয়োগ, ভর্তি ও শিফট পরিবর্তনসংক্রান্ত নানা অনিয়মের তথ্য সামনে আসে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৯ সালের পাঁচ জানুয়ারি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অস্থায়ী ভিত্তিতে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই শাহজামালকে দিয়ে বিদ্যালয়ের কম্পিউটারের যাবতীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল কর্তৃপক্ষ। তবে অফিস সহায়ক পদে চাকরি করলেও তিনি কম্পিউটার অপারেটর পদে বেতন তুলতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের সই জাল করে মাস্টাররোলে লোক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
কম্পিউটারে শিক্ষার্থী ভর্তি এবং শিফট পরিবর্তনসংক্রান্ত কিছু তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এসব তথ্যের সঙ্গে ভর্তি-বাণিজ্য বা অন্য কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করতে বুধবার রাত ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে যান তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী। তিনি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অভিযোগের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করার পর অভিযুক্ত শাহজামালকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, বিস্তারিত জানার পর সব বলতে পারব। আপাতত অভিযুক্ত থানা হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে জালিয়াতির নানা তথ্য পাওয়া গেছে।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, রাতে সময় স্বল্পতা ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় ওই সময় মামলা করা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম বাদি হয়ে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রশ্ন ফাঁসের পাশাপাশি নিয়োগ ও ভর্তিতে এমন অনিয়মের অভিযোগে জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
