ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলে নজর কেড়েছে রংপুর-৩ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন) আসন। বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের মিলনায়তনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হরিণ’ প্রতীক পেয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের লড়াকু প্রতিনিধি আনোয়ারা ইসলাম রানী।
রংপুর-৩ আসনে আনোয়ারা ইসলাম রানীর প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছেন দেশের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টির গোলাম মোহাম্মদ কাদের (লাঙ্গল), বিএনপির শামসুজ্জামান সামু (ধানের শীষ), জামায়াতের মাহবুবার রহমান বেলাল (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুজ্জামান পিয়াল (হাতপাখা) এবং বাসদের আব্দুল কুদ্দুস (মই)।
প্রতীক পাওয়ার পর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে রানী আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলেন, আমি কোনো ক্ষমতার জোরে বা কোনো দলের ছায়ায় আসিনি। শুধু মানুষের ভালোবাসাকে সঙ্গী করে জনপ্রতিনিধিত্ব করতে এসেছি।

তিনি নিজেকে অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে দাবি করে বলেন, আমার কোনো পিছুটান বা সংসার নেই। আমার পুরো সময় ও শক্তি আমি এই এলাকার মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে উৎসর্গ করব।”
রানী তার প্রতীকের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেন, হরিণ হচ্ছে নিরীহ ও শান্ত প্রকৃতির প্রতীক, যা অনেকটা আমাদের দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিচ্ছবি। স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও যারা বঞ্চিত, তাদের হয়ে সংসদে কথা বলাই তার মূল লক্ষ্য। তবে প্রচারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা শঙ্কাও জানান তিনি।

আনোয়ারা ইসলাম রানী রংপুরের ‘ন্যায় অধিকার ট্রান্সজেন্ডার উন্নয়ন সংস্থা’র সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। এর আগেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (ঈগল প্রতীক) হিসেবে তিনি জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন এবং ২৩ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে চমক সৃষ্টি করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে এবারের নির্বাচনে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৯ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে রানীর অংশগ্রহণ নির্বাচনকে একটি ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও এখন কৌতূহল- ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর বিপরীতে ‘হরিণ’ প্রতীকের এই মানবিক আন্দোলন কতটা সফল হবে।
