তিনি সত্যজিতের অপর্ণা। তারও আগে ঠাকুর পরিবারের মেয়ে। তারও পরে তিনি ‘পদ্মভূষণ’। তার জন্য প্রতীক্ষা। ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রধান ভেন্যু। সেই ভেন্যুতে, শনিবার বিকেলের আলোটা উজ্জ্বল করে তিনি এলেন।
আমরা দেখলাম সৌন্দর্য, প্রতিভা আর ব্যক্তিত্বের মাধুর্যে একজন শর্মিলা ঠাকুরকে। উদ্বোধনী আয়োজনে তিনি বিশেষ অতিথি। উৎসবে তিনি এশিয়ান প্রতিযোগিতা বিভাগে বিচারক।
দর্শক সারিতে বসে উপভোগ করলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র যাত্রার দারুণ এক ‘কোলাজ’। নৃত্যে ফুটে উঠলো সিনেমার সব কালজয়ী গান। এক লহমায় দেশীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাস।
সে মুগ্ধতার কথাই বললেন পরে অতিথি হিসেবে মঞ্চে কথা বলতে গিয়ে। তবে তার আগে জানিয়ে দিলেন, প্রাণবন্ত এই শহরে আসতে পেরে কতটা খুশি হয়েছেন তিনি।
শুরুটা করলেন, ‘নমস্কার। আদাব’ বলে। তারপরেই বললেন, ‘আমি খুব খুশী প্রাণবন্ত এ শহরে এসে। তবে এই আসা প্রায় বাতিল হতে বসেছিল! শুক্রবার যখন আমি দিল্লি বিমানবন্দরে গিয়েছিলাম, আমাকে বলা হলো, কুয়াশার কারণে ফ্লাইট ক্যানসেল। বাইরে তখন প্রচণ্ড ঠান্ডা। পরবর্তী ফ্লাইট ছিল আজ; যদি আমি এই ফ্লাইট ধরতাম, তাহলে হয়তো উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারতাম না। পরে বাংলাদেশ বিমানের সহযোগিতায় ঢাকায় আসতে পেরেছি। একটা অ্যাডভেঞ্চার দিয়ে জার্নিটা শুরু হয়েছিল!’
ঢাকায় আসার পরের অ্যাডভেঞ্চারের বর্ণনায় শর্মিলা ঠাকুর বলেন, ‘আমাকে উৎসবের পরিচালক বলেছেন, হোটেল থেকে ভেন্যু হেঁটে গেলে মাত্র দুই মিনিট, আর গাড়িতে পাঁচ মিনিট। কিন্তু কোনো কারণে আমরা একটা ভুল মোড় নিয়ে ফেলি। যার কারণে আমরা প্রায় ৩৫ মিনিট দেরিতে পৌঁছালাম। এটা একরকম অ্যাডভেঞ্চারই ছিলো। ট্র্যাফিক থেকে শুরু করে ঢাকার কিছু রূপও দেখা হয়ে গেল।’
যদিও কথাগুলো বলার সময় শর্মিলা ঠাকুরের চেহারায় বিরক্তির একটুও ছাপ ছিলো না। হাসিমাখা মুখে ঘটনাগুলো বলছিলেন তিনি। হঠাৎই তার কাছে বাংলায় কথা বলার অনুরোধ রাখেন ঢাকা উৎসবের পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল। কিন্তু বিনয়ের সঙ্গেই তা ফিরিয়ে দেন অভিনেত্রী।
বলেন, ‘আমি বাংলায় কেন বলব, এটা তো আন্তর্জাতিক উৎসব। আর সবাই জানে, আমি বাঙালি। জানেন না! আপনারা জানেন নিশ্চয়। এখানে অনেক বিদেশি অতিথি আছেন। প্লিজ মাফ করবেন।’
এরপরই শোনালেন উদ্বোধনী সাংস্কৃতিক আয়োজনের মুগ্ধতার কথা। বললেন, ‘আমি ভুলে গেছি, কতো সালে সিনেমায় যাত্রা শুরু করেছিলাম। অপুর সংসার। ১৯৫৬ না ৫৯? আপনাদের পুরোনো সিনেমার গানগুলো দারুণ ভালো লেগেছে’।
উৎসব নিয়ে বললেন, ‘চলচ্চিত্র ভাষা মানে না। ভালো সিনেমা সবাইকে একত্রিত করে। আমার মনে হয়, সিনেমার চেয়ে অন্য কিছু এমন পারে না। আমাকে জুরি করার জন্য ধন্যবাদ। আমি এশিয়ান বিভাগে জুরি হয়ে এসেছি।’
সেই সাথে জানিয়ে দিলেন, ইরানি ছবি তিনি কতোটা পছন্দ করেন। বলেন, ‘আমরা উদ্বোধনী ছবি দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন। এটি বাংলাদেশ-ইরান যৌথ নির্মাণ। আমি ইরানি ছবি ভালোবাসি। সো ওয়ান্ডারফুল, সোজা সিম্পল।’
সবশেষে বললেন, উৎসবের সমাপনী দিনে তিনি বাংলায় দীর্ঘ বক্তব্য দেবেন।
পর্দা উঠলো ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের