বেসরকারি নারী উন্নয়ন সহযোগী সংগঠন নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের ‘নারীদের ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি’ শুরু হয়েছে। শুক্রবার এ উপলক্ষ্যে রাজধানীতে এক আলোচনা সভা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক মাশহুদা খাতুন শেফালীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন নারী স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. হালিদা হানুম আখতার, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের ক্যান্সার এপিডেমিওলোজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ও নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের উইমেন্স ক্যান্সার কন্ট্রোল প্রোগ্রামের পরামর্শক অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।
আলোচনায় আরও অংশ নেন সাংবাদিক হামিম কবির, নাসরিন সুলতানা, জান্নাতুল ফেরদৌসী মানু, ইয়াসমিন পিউ, ইসমত জেরিন স্মিতা ও কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মোসাররত সৌরভ, সেক্রেটারি ইকবাল মাহমুদ, উন্নয়ন ধারার নির্বাহী পরিচালক মাহবুব শওকত।
মাশহুদা খাতুন শেফালী জানান, অন্যান্য কর্মসূচির পাশাপাশি নারী উদ্যোগ কেন্দ্র ‘উইমেনস ক্যান্সার কন্ট্রোল প্রোগ্রাম’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কর্মসূচির আওতায় জাতীয়, আঞ্চলিক ও সামাজিক পর্যায়ে স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে জনসচেতনতা, প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিৎসা বিষয়ক নির্দেশনা দেওয়া হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও সমাজভিত্তিক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হবে। কার্যক্রমটি প্রাথমিকভাবে কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩টি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
কিশোরগঞ্জ জেলা শহর, পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়ন ও ঢাকার সাভারে অবস্থিত মোট তিনটি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজভিত্তিক ক্যান্সার সেবা চালু করা হবে। টেলিমেডিসিনের সহায়তায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।
অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার বলেন, গ্রামীণ নারীদের অসচেতনতা ও সঙ্কোচের কারণে ক্যান্সার অনেক দেরিতে ধরা পড়ে। ফলে চিকিৎসায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। সমাজভিত্তিক ক্যান্সার সেবা এর উত্তরণ ঘটাতে পারে।
তিনি জানান, নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কিশোরগঞ্জের জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলায় স্তন, জরায়ুমুখ ও মুখগহ্বরের ক্যান্সারের একটি সমন্বিত ও সংগঠিত স্ক্রিনিংয়ের একটি পাইলট প্রকল্প চালু করা হচ্ছে।
ড. হালিদা হানুম আক্তার বলেন, নারীর ক্যান্সারের পাশাপাশি পুরুষদের ক্যান্সার নিয়েও কথা বলতে হবে, যাতে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা ক্যান্সার প্রতিরোধ, নির্ণয় ও চিকিৎসার বিষয়ে সচেতন হন।
