করোনাভাইরাসের টিকা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে অস্ট্রিয়ার রক্ষণশীলদের নেতৃত্বাধীন সরকার। এই ঘোষণা অনুসারে, ১৪ বছরোর্ধ্ব মানুষদের জন্য কোভিড টিকা বাধ্যতামূলক এবং যারা এটি নিতে অস্বীকৃতি জানাবে তাদেকে প্রতি তিন মাস অন্তর ৩ হাজার ৬০০ ইউরো (৪০৭১ ডলার) জরিমানা দিতে হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এখবর জানিয়েছে।
অস্ট্রিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৮ শতাংশ পূর্ণাঙ্গ ডোজ টিকা নিয়েছেন। এটি পশ্চিম ইউরোপের টিকাদানের নিম্ন হারের একটি। দেশটির অনেক নাগরিক টিকা নিয়ে সন্দেহপ্রবণ। পার্লামেন্টের তৃতীয় বৃহত্তম দল ডানপন্থী ফ্রিডম পার্টি এই সন্দেহপ্রবণতাকে উসকে দিচ্ছে।
তিন সপ্তাহ আগে অস্ট্রিয়াতে সংক্রমণ রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছায়। এরপর সরকার চতুর্থ জাতীয় লকডাউন ঘোষণা করে। তখনই বলা হয়েছিল, প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে সবার জন্য টিকা বাধ্যতামূলক করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওল্ফগ্যাং মুয়েকস্টেইনকে সঙ্গে সাংবিধানিক বিষয়ক মন্ত্রী ক্যারোলাইন এডস্টেডলার বলেন, টিকা না নেওয়া মানুষদের আমরা শাস্তি দিতে চাই না। আমরা তাদের মন জয় করতে চাই এবং টিকা নিতে রাজি করাতে চাই।
টিকা বাধ্যতামূলক করার এই প্রস্তাব অবশ্যই পার্লামেন্টে অনুমোদিত হতে হবে। ১ ফেব্রুয়ারি পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হবে। দুটি বিরোধী দল এই প্রস্তাব সমর্থন করছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে সহজেই এটি পাস হবে।
আরও পড়ুন: নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে উসকানির অভিযোগে গ্রেপ্তার পাঁচ
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, তিন মাস অন্তর টিকা নেওয়ার সময়সীমা থাকবে। কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় টিকা রেজিস্টার যাচাই করবে। তালিকায় নাম না থাকলে জরিমানার প্রক্রিয়া শুরু হবে। নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবে ৩ হাজার ৬০০ ইউরো জরিমানা করা হবে।
তিনি আরও জানান, মানুষের আয় ও অন্যান্য আর্থিক প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা নেওয়া হবে জরিমানার ক্ষেত্রে।
একাত্তর/এসএ
