রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে বলেছেন, যাই ঘটুক না কেন, রাশিয়া ইউক্রেনে তার সামরিক হস্তক্ষেপের লক্ষ্য অর্জন করবে।
বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) ক্রেমলিনের বরাতে একথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এক বিবৃতিতে ক্রেমলিন জানায়, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ফোনে চলমান সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভ্লাদিমির পুতিন কিয়েভের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার প্রেক্ষাপটে মৌলিক পন্থা এবং শর্তাবলীর বিস্তারিত রূপরেখা দিয়েছেন। রাশিয়ান ফেডারেশনের জন্য কোনো ধরনের হুমকি মেনে নেওয়া হবে না।
সেখানে আরও বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার 'বিশেষ অভিযান' পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে। রুশ বাহিনী কিয়েভে বোমাবর্ষণ করছে তা একটি 'রাশিয়া-বিরোধী বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা'র অংশ ছিল এবং রুশ বাহিনী ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।
রাশিয়া ইউক্রেনে তাদের ক্রিয়াকলাপকে একটি 'বিশেষ অভিযান' হিসেবে অভিহিত করেছে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউক্রেন দখল করার জন্য নয় বরং রাশিয়ার দক্ষিণের প্রতিবেশী ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার জন্য এবং এ অঞ্চলের বিপজ্জনক জাতীয়তাবাদীদের কোণঠাসা করতেই এই উদ্যোগ।
আরও পড়ুন: বিশ্বের ইহুদিদের প্রতি প্রতিবাদের আহবান জেলেনস্কির
এর আগে বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের অন্যতম বড় শহর খেরসন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে রাশিয়া। দক্ষিণ ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর নগরী দখল করে কারফিউ জারি করেছে রুশ সেনারা।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সামরিক অভিযান ঘোষণার কয়েক মিনিট পরেই ইউক্রেনে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে রুশ সেনারা। এরপর থেকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলছে। ইউক্রেন দাবি করেছে, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের দুই হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। যদিও নিহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি তারা। এ ছাড়া রাশিয়ার ৫ হাজার ৪৮০ সৈন্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি ইউক্রেনের।
আরও পড়ুন: পশ্চিমা নেতারা পারমাণবিক যুদ্ধের উস্কানি দিচ্ছে: ল্যাভরভ
অন্যদিকে রাশিয়া দাবি করেছে, যুদ্ধে তাদের ৪৯৮ সৈন্য নিহত এবং আরও এক হাজার ৬০০ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া রুশ হামলায় ইউক্রেনের ২ হাজার ৮৭০ জনের বেশি ইউক্রেনীয় সেনা নিহত এবং প্রায় ৩ হাজার ৭০০ জন আহত হয়েছে।
একাত্তর/আরবিএস
