সাবেক একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা, একজন অক্সফোর্ড গ্র্যাজুয়েট এবং পাকিস্তানের হার্টথ্রব ইমরান খান। সারা বিশ্বে পাকিস্তানের সবচেয়ে পরিচিত মুখ ইমরান খান।
খেলোয়াড় হিসেবে নিজের জনপ্রিয়তা রাজনীতিক হিসেবেও অর্জনে অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হয়েছে ইমরান খানকে। সফল ক্রিকেটার হলেও, প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই ব্যর্থই থেকে গেলেন।
১৯৯২ সালের ২৫শে মার্চ। ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতলো পাকিস্তান। আর সেই জয়ের নায়ক ছিলেন ইমরান খান। খেলার জগতে অনবদ্য এক নাম হয়ে ওঠেন ইমরান খান।
গ্ল্যামারাস খেলার মাঠে সর্বোচ্চ অর্জন বিশ্বকাপ জয়। এরপর রাজনীতির মাঠের সর্বোচ্চ অর্জন প্রধানমন্ত্রীত্বটাই বাকি ছিলো তার।
কিন্তু যেই মানুষটা রাজনীতিতেই আসতে চাননি তিনি নিজের প্রধানমন্ত্রীত্ব বাঁচাতে প্রাণপণ লড়াই করলেন।
যাত্রার শুরু, ১৯৯৪ সাথে মায়ের স্মরণে একটি ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। একই সাথে নিজের প্লেবয় ইমেজ পরিবর্তণ করে ধর্ম-কর্মের দিকে মন দেন।
আর এটাই তাকে এনে দেয় বিপুল জনসমর্থন ও ভালোবাসা। ফলাফল, তার রাজনীতিতে প্রবেশ।
১৯৯৬ সালে ইমরান খান গঠন করলেন তার রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ। এর অর্থ হলো ন্যায় বিচারের জন্য লড়াই।
প্রথম নির্বাচনে একটি আসনও পায়নি দলটি। আর ২০০১ সালের নির্বাচনে ইমরান খান শুধু তার নিজের আসনে জয় পান।
২০১৩ সালের নির্বাচনে ৩৫টি আসন জেতে পিটিআই। এর পরই হাসপাতালের বিছানা থেকে জনগণের কাছে আবেদন। চার নির্বাচন গেলো, ক্ষমতা এলো না। তবে চলতে থাকলেন ইমরান।
কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের দুই রাজনৈতিক পরিবার শরিফ ও ভুট্টোদের দুর্নীতিতে নাকাল দেশের মানুষ। এই সুযোগটি নিলেন ইমরান। হয়ে উঠলেন তরুণ ও শ্রমিকদের কাছের মানুষ।
২০১৭ সালে নওয়াজ শরীফকে দুর্নীতির দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। আর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ তৈরি হয়ে যায় ইমরান খানের জন্য।
তবে প্রধানমন্ত্রী হবার পর বোঝা যায়, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো ধারণাই নেই ইমরান খানের। বোঝা গেলো, বাইরে থেকে সমালোচনা করা গেলেও সরকার চালানো সত্যিই কঠিন।
কেউ তাকে বলেননি, যে মধ্যপ্রাচ্যে হাত পাতলেই রাজস্ব বাড়বে না, কিংবা মস্কোর সাথে করমর্দনেই পররাষ্ট্রনীতি শক্ত হবে না।
আবার ওসামা বিন লাদেনকে শহীদ বললে নতুন বন্ধু পাওয়া যাবে না। এই সব অসফলতার ফলই হলো ১০ই এপ্রিলের অনাস্থা ভোট, আর ইমরান খানের উইকেট পতন।
একাত্তর/ এনএ
