দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান ও নাৎসি জার্মানির বিপক্ষে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের জয়ের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করছে রাশিয়া। এ উপলক্ষে দেশটির রাজাধানী মস্কোর ঐতিহাসিক রেড স্কয়ারে সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়।
চলতি বছর মোট ১১ হাজার সেনা ও সামরিক স্কুলের শিক্ষার্থী, ১৩১টি স্থল সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম এবং ৭৭টি বিমানের সমন্বয়ে গঠিত বিমান দল রেড স্কয়ারে সমবেত হয়।
সোমবার (৯ মে) মস্কো, সেন্ট পিটার্সবুর্গ, ইয়েকাতেরিনবার্গ, ভলগোগ্রাদ এবং ভ্লাদিভোস্তকসহ মোট ২৮টি শহরে বিজয় দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এসব আয়োজনের বেশ কিছু এক্সক্লুসিভ ছবি প্রকাশ করেছে চীনের রেডিও ইন্টারন্যাশনাল ও এপি, একাত্তরের পাঠকদের জন্য ঐতিহাসিক রেড স্কয়ারের নজারকাড়া সেই সামরিক কুচকাওয়াজের কিছু অংশ-

১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ৯ মে হিটলারের নাৎসি সেনাদের পরাজিত করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন বাহিনী। আর সেই থেকেই এ দিনটিকে ‘বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করে মস্কো।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ মানবসভ্যতার ইতিহাসে এ যাবৎকাল পর্যন্ত সংঘটিত সর্ববৃহৎ এবং সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ। ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল, এই ছয় বছর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়সীমা ধরা হলেও ১৯৩৯ সালের আগে এশিয়ায় সংগঠিত কয়েকটি সংঘর্ষকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তৎকালীন বিশ্বে সকল পরাশক্তি এবং বেশিরভাগ রাষ্ট্রই এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং দুইটি বিপরীত সামরিক জোটের সৃষ্টি হয়; মিত্রশক্তি আর অক্ষশক্তি। এই মহাসমরকে ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্তৃত যুদ্ধ বলে ধরা হয়, যাতে ৩০টি দেশের সব মিলিয়ে ১০ কোটিরও বেশি সামরিক সদস্য অংশগ্রহণ করে।

বেসামরিক জনগণের উপর চালানো নির্বিচার গণহত্যা, হলোকস্ট (হিটলার কর্তৃক ইহুদীদের উপর চালানো গণহত্যা), পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োগ প্রভৃতি ঘটনায় কুখ্যাত এই যুদ্ধে প্রায় ৫ কোটি থেকে সাড়ে ৮ কোটি মানুষ মৃত্যুবরণ করে। এসব পরিসংখ্যান এটাই প্রমাণ করে যে এটাই পৃথিবীর ইতিহাসে নৃশংসতম যুদ্ধ।

পূর্ব এশিয়ায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের লক্ষে জাপান ইতোমধ্যেই ১৯৩৭ সালে প্রজাতন্ত্রী চীনে আক্রমণ করে। পরবর্তীতে ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করে এবং তার ফলশ্রুতিতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। দ্বিতীয় ঘটনাটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা বলে গণ্য করা হয়।

অন্যদিকে মিত্র শক্তির লাগাতার হামলায় দিশেহারা হয়ে পরাজয় বরণ করে জাপান, জার্মানি ও ইতালির অক্ষশক্তি। নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে তারা মিত্রশক্তির কাছে। ১৯৪৫-এর ১৫ আগস্ট জাপানের সম্রাট হিরোহিতো আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেন। আত্মসমর্পণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ২ সেপ্টেম্বর। তাই, এই দিনটিকেই ভয়াল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
৯ মে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনেও রাশিয়ার পক্ষ থেকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
একাত্তর/আরবিএস
