শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় মূল বিক্ষোভস্থলে অভিযান চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। সেখানে বিক্ষোভকারীরা যেসব তাবুতে থাকতেন সেগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে শপথ নেওয়ার পর এই অভিযান চালানো হলো।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) গভীর রাতে ঘটনার সময়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদককে পিটিয়েছে সেনাবাহিনী। অপর এক সেনা সদস্য তার ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে দিয়েছে। খবর বিবিসির।

প্রত্যক্ষদর্শীরা গণমাধ্যমকে জানান, সেনারা গত এপ্রিল থেকে হাজার হাজার সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীর রসদ সরবরাহের জন্য এলাকায় স্থাপিত বেশ কয়েকটি অস্থায়ী কাঠামো অপসারণ করেছে। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে শতাধিক বিক্ষোভকারীকে।
বিক্ষোভকারীদের ওপর রনিল বিক্রমাসিংহে যে চড়াও হতে পারেন সেই ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন। শপথ নেওয়ার পর পরই তিনি বলেছিলেন, সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা কিংবা সরকারি কোনো ভবন দখল নেওয়া কোনো গণতান্ত্রিক কার্যক্রম নয়। তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, এই ধরনের কোনো কিছু করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০ জুলাই পার্লামেন্টে ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রনিল বিক্রমাসিংহে। ২২৫ আসনের পার্লামেন্টে তিনি ভোট পেয়েছেন ১৩৪টি। যদিও বিক্ষোভকারীরা তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে নেননি। নির্বাচিত হওয়ার পরেই রনিলকে তাড়ানোর ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।
প্রসঙ্গত, বিক্ষোভের মুখে গত মে মাসে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হন মাহিন্দা রাজাপাকসে। এরপর সংসদে মাত্র একটি আসন থাকা ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) নেতা রনিল বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসান মাহিন্দার ছোট ভাই প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। তাতে জনরোষ কমেনি।

আরও পড়ুন: মানসিক প্রতিবন্ধীকে বেঁধে পেটানোর ভিডিও ভাইরাল
তুমুল বিক্ষোভের মুখে গত সপ্তাহে সামরিক বিমানে করে দেশ ছেড়ে পালান শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। যান মালদ্বীপে। এরপর সেখান থেকেই পাড়ি জমান সিঙ্গাপুরে।
গোতাবায়া রাজাপাকসের দেশত্যাগের মধ্যদিয়ে শ্রীলঙ্কায় একটি পারিবারিক রাজবংশের অবসান ঘটেছে। কয়েক দশক ধরে শ্রীলঙ্কার নিয়ন্ত্রণে ছিলো রাজাপাকসে পরিবার।
একাত্তর/আরএ
