তীব্র খরায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং জলাশয় শুকিয়ে যাওয়ায় ভয়াবহ পানির সংকটে পড়েছে তিউনিসিয়া। পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাতের বেলা সাত ঘণ্টা পানি সরবারহ বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। নিষিদ্ধ করা হয়েছে জমিতে পানি দেয়া, গাড়ি ধোয়া, গাছে পানি দেয়াসহ বিভিন্ন কার্যক্রম।
সরকারের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসছেন আর্থিক সংকটে ভগতে থাকা দেশটির সাধারণ মানুষ।
এক সময়ের চিরচেনা জলধারা এখন ফেটে চৌচির। তীব্র খরায় তিউনিসিয়ার চিবা বাধের এ হাল। এ পরিস্থিতি স্থানীয় অনেক জলধারার। পানির তৃষ্ণায় খাঁখাঁ করছে জনপদ। স্মরণকালের ভয়াবহ খরা-পানি সংকট। যার মূল্য চুকাতে হচ্ছে সাধারণকে। স্থানীয় কুয়াটি পানির একমাত্র উৎস চার সন্তানের জননী সামিরা ওথমেনের, কিন্তু ধোয়ামোছা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, রান্না, খাবারে কুয়ার পানি ব্যবহার করি। কিন্তু কাপড় ধোয়ার পানি নেই। মাসের পর মাস ময়লা কাপড় ফেলে রাখতে হয়। মাঝে মাঝে প্রতিবেশীদের কাছে কন্টিনার নিয়ে যাই। কাপড় ধোয়ার পানি আনি।
তিউনিস কার্থেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে দার ফাথাল। স্থানীয় বাসিন্দা সাফিক ইয়াকুব জানান, তার বাড়িতেও পানি নেই। নির্ভর করতে হয় প্রতিবেশীদের ওপর।
অপর আরেক বাসিন্দা বলেন, কলের মধ্যে কোনো পানি নেই। কন্টিনার দিয়ে পানি নিয়ে আসি। প্রতিবেশীদের দেয়া পানি দিয়ে দৈনন্দিন কাজ সারতে হয়।
গাড়ি ধোয়া, গাছে পানি দেয়া, সড়ক-জনগমস্থল পরিষ্কারে পানির ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। আইন না মানলে ছয়দিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, আছে অর্থদণ্ডের বিধানও।
স্থানীয়রা বলছেন, পানির ব্যবহার কমাতে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে গত দুই সপ্তাহ ধরে রাতে পানি দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণের মধ্যে। ইতিমধ্যে মানহীন নাগরিকসেবা, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, দুর্বল অর্থনীতিতে ভুগছে সাধারণ মানুষ। তার ওপর পানি সরবারহে নতুন সিদ্ধান্ত হুমকি দিচ্ছে সামাজিক স্থিরতায়।
আরও পড়ুন: ‘নিউ স্টার্ট’ স্থগিত করায় মার্কিন গুপ্তচরবৃত্তি ব্যর্থ হবে: মস্কো
তিউনিসিয়ার মৎস্য ও পানি ইউনিয়নের সহ-সভাপতি আনিস খারবৌচি বলছেন, পানি সংকট নতুন কিছু নয়। এমন এলাকাও আছে যেখানে বছরের পর বছর ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ। পানির ব্যবহার কমানো হয়েছে সাশ্রয়ের জন্য। মার্চ-এপ্রিলে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পানি সাশ্রয় করতে পারলে গ্রীষ্মে পানির একটা ভালো মজুদ থাকবে।
সংকট মোকাবেলায় রাতে সাত ঘণ্টা পানি বন্ধ রাখছে কর্তৃপক্ষ। চতুর্থবারের মতো এমন খরার সঙ্গে লড়ছে তিউনিসিয়া।
মার্চে কৃষি মন্ত্রণালয়, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কৃষি জমিতে পানি দেয়া নিষিদ্ধ করেছে।
একাত্তর/আরএ
