চেক প্রজাতন্ত্রের তৈরি ব্লাডসাকার মাল্টিপল রকেট সিস্টেম ব্যবহার করেছে ইউক্রেন। যার নাম আরএম-সেভেনটি ভ্যাম্পায়ার। সম্প্রতি এই সিস্টেমের একটি ভিডিও বের করেছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী। ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে নিভুর্লভাবে লক্ষ্যবস্তুতে বস্তুতে আঘাত ছাড়াও, আক্রমণের জন্য দ্রুত প্রস্তুত এবং হামলার পর নিরাপদে ফিরতে পারে আরএম-সেভেনটি।
সম্প্রতি ইউক্রেনীয় বাহিনী একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। যেখানে চেক প্রজাতন্ত্রের তৈরি আরএম-সেভেনটি ভ্যাম্পায়ার মাল্টিপল রকেট সিস্টেম দেখানো হয়েছে। যাকে ব্লাডসাকার আখ্যা দিয়েছে ইউক্রেনীয় সৈন্যরা। গ্র্যাড মাল্টিপল রকেট সিস্টেম এবং আরএম-সেভেনটি ভ্যাম্পায়ার মাল্টিপল রকেট সিস্টেমের মধ্যকার পার্থক্যকে সোভিয়েত আমলের গাড়ি থেকে আধুনিক গাড়ির সঙ্গে তুলনা করেছেন একজন ক্রু কমান্ডার।
কয়েক দশকের পুরানো প্রযুক্তিতে তৈরি গ্র্যাড মাল্টিপল রকেট সিস্টেম স্থানীয় অস্ত্র হিসাবে যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে রাশিয়া-ইউক্রেন। গ্র্যাড মাল্টিপল রকেট সিস্টেম থেকে আরএম সেভেনটি ভ্যাম্পায়ার অনেক বেশি আধুনিক। দুটি রকেট সিস্টেমই ট্রাকের উপর স্থাপন কোরে ব্যবহার করা হয়।

বিভিন্ন সিস্টেম থেকে বিভিন্ন ধরনের রকেট ছুঁড়তে পারে আরএম-সেভেনটি। এছাড়া অধিক নির্ভুল, বেশি দূরত্বে, সহজে ফায়ার পজিশনে নেয়া, হামলার পর দ্রুত নিরাপদে ফিরতে পারার কারণে গ্র্যাড মাল্টিপল রকেট সিস্টেম থেকে আরএম-সেভেনটি বহুমাত্রায় শক্তিশালী। আরএম-সেভেনটি সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটারের মধ্যকার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ৩০ সেকেন্ডে পারে ৪০টির মতো রকেট ছুঁড়তে। গ্র্যাডের সীমানা ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার।
রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পরই চেক প্রজাতন্ত্র ইউক্রেনকে আরএম-সেভেনটি ভ্যাম্পায়ার মাল্টিপল রকেট সিস্টেম দেয়া শুরু করে। এ পর্যন্ত কতো সংখ্যক দিয়েছে তা জানা যায়নি। চেক প্রজাতন্ত্রে গিফট ফর পুতিন নামে ইউক্রেনকে সহায়তায় তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে। ওই তহবিলের অর্থে মার্চে ইউক্রেনকে ৩৬৫টি মিসাইলসহ একটি আরএম-সেভেনটি দেয়া হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় আরএম-সেভেনটি ভ্যাম্পায়ারের আধুনিক সংস্করণ ব্যবহার করছে ইউক্রেন। আরএম-সেভেনটি, আরএম সেভেনটি ওয়ানটুটু মাল্টিপল রকেট সিস্টেমের আধুনিক সংস্করণ। যা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লক্ষ্যবস্তুতে হামলার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: তৃতীয় দিনে তাইওয়ানকে ‘বিচ্ছিন্ন করার’ অনুশীলন চীনের
২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম আরএম-সেভেনটি তৈরি করা হয়। অক্টোবরে সফল পরীক্ষার পর শুরু হয় বাণিজ্যিক উৎপাদন। তাতরা টি-এইটওয়ানফাইভ, এইট ইন্টু এইট মিলিটারি ট্রাক থেকে ব্যবহার করা হয়। এটি পরিচালনায় প্রয়োজন পড়ে তিনজন ক্রু।
একাত্তর/এসজে
