গত দুই দশকের তুলনায় সম্প্রতি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে দ্বিগুণ হারে। গ্রিনল্যান্ড এবং অ্যান্টার্কটিকার হিমবাহ গলে যাওয়া এ বিপর্যয়ের বড় কারণ।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির নতুন রেকর্ড হতে পারে।
দুই দশক আগেও প্রতিবছর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তো দুই দশমিক তিন মিলিমিটার হারে। সম্প্রতি দেখা গেছে এ হার চার দশমিক ছয়।
গ্রিনল্যান্ড এবং অ্যান্টার্কটিকা হিমবাহ গোলে যাওয়া এ পরিস্থিতির বড় কারণ। প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যান্টার্কটিকা সাগরে বরফ সঙ্কুচিত হচ্ছে। নিচে নামছে বরফের স্তর। ফেব্রুয়ারিতে যা ছিলো এ যাবতকালের সর্বনিম্ন। অব্যাহতভাবে গলছে হিমবাহও।

সত্তরের দশকের পর এ হার বেড়েছে চারগুণ। আর্টিকের বরফের স্তর নিচে নামছে আরো দ্রুত। সুইজারল্যান্ডে গত গ্রীষ্মে তাপপ্রবাহে হিমবাহের ভর কমে ছয় দশমিক দুই শতাংশ।
মহাসাগরগুলো রেকর্ড উষ্ণ ছিলো। তাপপ্রবাহ বেড়ে যায় ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত। ইউরোপে তাপপ্রবাহে গত বছর মারা গেছে ১৫ হাজার মানুষ।
সংস্থা মহাসচিব পেটেরি তালাস জানান, হিমাবাহের গলা এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিরোধে ইতিমধ্যে ব্যর্থ হয়েছে বিশ্ববাসী। একে খারাপ খবর হিসাবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ।
কারণ হিসাবে আরো বলা হয়, এতো পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাস ইতিমধ্যে নির্গত হয়েছে, যার প্রভাবে হাজার বছর ধোরে সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে থাকবে।
আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থা মহাসচিব পেটেরি তালাস বলেন, ঐতিহাসিক হিসাব অনুযায়ী প্রতি শতাব্দীতে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা আধা থেকে এক মিটার বেড়ে থাকে।

তিনি আরও যোগ করেন, নাসা তাদের কিছু প্রতিবেদনে অনুমান করছে, অ্যান্টার্টিকার হিমবাহ দ্রুতগতিতে গলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
যদি তাই ঘটে তাহলে ২০৩০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে ১০মিটার পর্যন্ত। যা বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ দুর্যোগের কারণ হবে বলে মনে করেন তিনি।
সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি টুভালোর মতো নিম্নাঞ্চলীয় রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি। যদি ডুবে যায় সে আশঙ্কায় নিজেদের ডিজিটাল ভার্সন তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ফুনাফুটি।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার প্রধান আরো জানান, তিন বছর ধোরে চলা লা-লিনা জলবায়ু কর্মসূচির কুলিং ইমপেকটের পরও ২০২২ সাল ইতিহাসে ষষ্ঠ উষ্ণতম বছর হিসাবে রকের্ড হয়।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সম্ভবত এল নিনোর পরিস্থিতি ফিরে আসার কারণে ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে গড় তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হতে পারে।
একাত্তর/এআর
