প্রায় এক যুগ পর আরব লিগ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়া সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন আরব বিশ্বের নেতারা।
শুক্রবার সৌদি আরবের জেদ্দায় এই আঞ্চলিক ব্লকের ৩২তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন আসাদ।
বছরের পর বছর ধরে তাকে এড়িয়ে চলা নেতাদের অংশগ্রহণে এই বৈঠকে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে দেখা যায় আসাদকে আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরতে।
বৈঠকের আগে একটি অফিসিয়াল ছবি তোলার সময় ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ আসাদের সাথে করমর্দন করেন এবং তাকে জড়িয়ে ধরেন।
রাশিয়ার সহায়তায় সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের জোয়ার ঘুরিয়ে দেওয়ার কারণে আরব রাষ্ট্রগুলো কর্তৃক দীর্ঘদিন ধরে একপ্রকার একঘরে হয়ে ছিলেন আসাদ।
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তার মন্তব্যে বলেন, আমরা আশা করি আরব লিগে সিরিয়ার প্রত্যাবর্তন তার সঙ্কটের অবসান ঘটাবে।
একসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত সৌদি আরব গত এক বছর ধরে আরব বিশ্বে কূটনৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। তারা ইরানের সাথে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে, সিরিয়াকে লিগে স্বাগত জানিয়েছে এবং সুদান সংঘাতে মধ্যস্থতা করেছে।
তবে ওয়াশিংটন আসাদের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের দিকে যেকোনো পদক্ষেপে আপত্তি জানিয়ে বলেছে, প্রথমে সংঘাতের একটি রাজনৈতিক সমাধানের দিকে অগ্রগতি হতে হবে।
এই রাজনীতিতে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হলো ইরানের সাথে আসাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, যা আরব রাষ্ট্রগুলোকে বরাবরই অস্বস্তিতে ফেলে এসেছে।
যুদ্ধ সিরিয়ার অর্থনীতিকে ভেঙে দিয়েছে এবং দেশটির অবকাঠামো, শহর ও কারখানা ধ্বংস করেছে। আসাদ নিঃসন্দেহে তার ক্ষতিগ্রস্ত দেশে উপসাগরীয় বিনিয়োগ থেকে উপকৃত হবেন, যদিও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দামেস্কের সাথে যেকোনো বাণিজ্যিক সম্পর্ককে জটিল করে তোলে।
আরও পড়ুন: ভারতে দ্রুত গতিতে বাড়ছে অতি-ধনীর সংখ্যা
উপসাগরীয় সরকারগুলোর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলে, ‘আমেরিকানরা হতাশ। আমরা (উপসাগরীয় রাষ্ট্র) এই অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ আমাদের হাতে থাকা সরঞ্জামগুলো দিয়ে যতটা সম্ভব আমাদের সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করছি।’
এদিকে, রাশিয়ান আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে কিয়েভের যুদ্ধের জন্য সমর্থন জোগাড় করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও উপস্থিত ছিলেন সম্মেলনে।
রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করতে সাহায্য করার জন্য পশ্চিমা চাপ সত্ত্বেও উপসাগরীয় দেশগুলো ইউক্রেন সংঘাতে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করে আসছে।
একাত্তর/এসজে
