আরব সাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’ ভারতের গুজরাটের কুচ ও সুরাট জেলা এবং পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে দুই দেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিপর্যয় মোকাবেলায় দুই দেশই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
পাকিস্তানের দুর্যোগ মোকাবেলা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৫ জুন সিন্ধের দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে ‘বিপর্যয়’। সেক্ষেত্রে সিন্ধ প্রদেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে মঙ্গলবার থেকে প্রবল বর্ষণ, ঝড়ো হাওয়া ও বন্যা দেখা দেওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।
পাকিস্তানের দৈনিক ডন জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি শনিবার বিকেলে করাচি থেকে ৯১০ কিলোমিটার দক্ষিণে ছিলো। বিপর্যয়ের কারণে করাচির উপকূলবর্তী এলাকায় শনিবার ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এরই মধ্যে ঝড়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে।
ঘরবাড়ি ধসে পড়ায় ঘটেছে হতাহতের ঘটনা। আরব সাগরের তীরবর্তী অপর প্রদেশ বেলুচিস্তানেও ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাপারে উচ্চ সতর্কতা জারিসহ যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচিতেও জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা ও রেড অ্যালার্ট।
এদিকে, ভারতের আবহাওয়া বিভাগ বলছে, ঝড় উত্তরপূর্ব দিকে সরে গিয়ে শক্তি সঞ্চয় করেছে। ১৫ জুন অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আঘাত হানতে পারে পাকিস্তান ও ভারতের গুজরাটে। এরই মধ্যে বিপর্যয়ের গতিবেগ পৌঁছেছে ঘণ্টায় ১৬৬ থেকে ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে।
ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ভারতের গুজরাট, মহারাষ্ট্র, গোয়া উপকূলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঘূর্ণির প্রভাবে উত্তাল সাগর। কয়েকটি জেলায় পাঁচ দিন জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে তিন দিন কেরালা ও কর্ণাটকের কয়েকটি জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’ অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়ার পর উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১২ জুন বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। এতে, ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হবে।
আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গুজরাটের সৌরাষ্ট্র এবং কুচে ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ওই এলাকার উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে বুধবার পর্যন্ত সাগর উত্তাল থেকে থেকে অতি উত্তাল থাকতে পারে এবং বৃহস্পতিবার সাগর খুবই উত্তাল থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
আবহাওয়ার সংস্থার খবর বলা হয়েছে, গুজরাটের কুচ, জামনগর, মোরবি, গীর সোমনাথ, পোর্বান্দর এবং দেবভূমি দর্কা বিভাগে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আগামী ১৩ থেকে ১৫ জুন অতি বৃষ্টি এবং ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বাতাস বইতে পারে।
আরও পড়ুন: এক দশকে লিঙ্গ বৈষম্যের কোনো উন্নতি হয়নি: জাতিসংঘ
কুচ থেকে ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। গুজরাটের জনপ্রিয় তিথাল সমুদ্র সৈকতে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এছাড়া মাছ ধরার নৌকাগুলোকে আপাতত সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রোববার মুম্বাই বিমানবন্দরে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। আবহাওয়া অনুকূল নেই এমন তথ্য জানিয়েছ বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বিলম্ব অথবা বাতিল করে দেয়া হয়েছে। এই কারণে সেখানে ফ্লাইটজট লেগেছে। যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা।
একাত্তর/এসজে
