ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ অনেকদিন থেকেই প্রযুক্তি যুদ্ধে মোড় নিয়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এখন সামনের সারিতে আছে ইউক্রেনের সাইবার টিম। এদের মধ্যে রয়েছেন অনেক দক্ষ হ্যাকারও। প্রযুক্তি ব্যবহার করে রুশ সেনাবাহিনীর অবস্থান এবং হামলার ধরণ আগে থেকেই জানতে পারছে তারা।
ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই রাশিয়ার বিপক্ষে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। আর রুশ বাহিনীর বিপক্ষে এই সম্মুখ যুদ্ধের মাঝেই আরেক অদৃশ্য যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন। সেই যুদ্ধ চলছে সাইবারস্পেসে।
জানা গেছে, রাশিয়ার ড্রোনসহ বিভিন্ন হাইটেক যুদ্ধাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করতে যুদ্ধের ময়দানের সামনের সারিতে কাজ করছে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা সাইবার ইউনিট বা এসবিইউ’র সদস্যরা। এদের মধ্যে রয়েছেন অনেক দক্ষ হ্যাকারও।
এই দলের সদস্যরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রোন, স্যাটেলাইট এবং অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ইউক্রেন সেনাবাহিনীকে জানায়। ফলে রুশ সেনাদের হামলার ধরন এবং তারা কোথায় কোন অস্ত্র দিয়ে হামলা করছে, তা আগে থেকেই জানতে পারছে ইউক্রেনীয়রা সেনারা।
এছাড়াও এই ইউনিট ইউক্রেনের কাছ থেকে দখল করে নেয়া অঞ্চলে নজরদারি ক্যামেরা দিয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর গতিবিধি সব সময় পর্যবেক্ষণ করে। তাদের ড্রোন আবার কখনো হামলা পরিচালনার কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের সাইবার টিমের এক সদস্য বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারি তারা কোন ধরনের সামরিক অস্ত্র ব্যবহার করতে চলেছে এবং কোন দিকে।’
শুধু কী তাই? এসবিইউ সাইবার টিম তাদের ড্রোন উড়িয়ে রুশ প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্তও করে থাকে। আর ড্রোন চালানোর ব্যাপারে কিয়েভের অদূরে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সেখানে ড্রোন ওড়ানোর পাশাপাশি কীভাবে তা শত্রুপক্ষের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখা যায় তা শেখানো হয়।
যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়েই ছোট ড্রোনগুলো ১০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত উড়েয়েছিলো ইউক্রেন। তবে সম্মুখযুদ্ধে এখন উভয় বাহিনীর অবস্থানের ব্যবধান খুব বেশি নয়। তাই ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার জ্যামিং সংকেতের বাধা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
ইউক্রেনীয় বাহিনী মনে করছে, তাদের বাহিনীর প্রযুক্তিগত দক্ষতা বেশি, রুশ বাহিনীর সৃষ্ট বাধা এড়াতে তারা সক্ষম।
আইটি আর্মি অব ইউক্রেন নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী হ্যাকার সংস্থা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করছেন। তাদের লক্ষ্য, রাশিয়ার ভেতরে যতো বেশি সম্ভব বিশৃঙ্খলা তৈরি করা।
এছাড়াও ইউক্রেনের হ্যাকার দলের অন্যতম লক্ষ্য রুশ রেডিও স্টেশনগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেখান থেকে ভুয়া বিমান হামলার সাইরেনের শব্দ প্রচার করা।
উত্তর কোরিয়ার নৌবহরে নতুন পারমাণবিক সাবমেরিন