বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অস্ত্রসমর্পণের পর আজারবাইজানের নাগোরনো-কারাবাখ ছাড়তে শুরু করেছেন জাতিগত আর্মেনীয়রা। রোববার আর্মেনীয় শরণার্থীদের একটি দল সীমান্ত পার হয়ে আর্মেনিয়ায় প্রবেশ করে। সেখানে তাদের নিবন্ধনের কার্যক্রম শেষ করে আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আতঙ্ক আর উদ্বেগ নিয়েই নাগরনো-কারাবাখ ছাড়ছেন আর্মেনীয়রা। সেখানে থাকা এক লাখ ২০ হাজার জাতিগত আর্মেনীয় নিজ দেশে চলে আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির নেতারা জানান, আর্মেনীয়রা আজারবাইজানের অংশ হয়ে থাকতে চান না। তারা জাতিগত নিধনের শিকার হওয়ারও আশঙ্কা করছেন। খবর আল-জাজিরার।
কয়েকজন আর্মেনীয় জানান, শেষ কিছুদিন ধরেই ভয়াবহ আতঙ্কে দিন কাটিয়েছেন তারা। একের পর এক বোমা বিস্ফোরণ হয় রাতে। এখানে থাকলে প্রাণে বাঁচবো বলে মনে করছি না।
রোববার এক হাজার ৫০ জন নাগোরনো-কারাবাখ ছেড়ে আর্মেনিয়ায় পৌঁছেছেন। এই দলে নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশি ছিল। সেখানে তাদের নিবন্ধনের কার্যক্রম শেষ করেন আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা।
আহতরাও আর্মেনিয়ার দিকে। আর্মেনিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছেন, ২৩ জন আহত সেনাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে আসা হচ্ছে।
তারা বলেন, আমাদের পরিবারগুলো আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলো। শনিবার আমাদের অস্ত্র জমা দিতে হয়েছে। তাই আমরা সেখান থেকে চলে এসেছি।
গত বুধবার আজারবাইজানের আকস্মিক অভিযানের মুখে অস্ত্রসমর্পণ ও যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। বিষয়টি তদারকি করছেন সেখানে থাকা রাশিয়ার শান্তিরক্ষীরা।
এদিকে নাগোরনো-কারাবাখের জাতিগত আর্মেনিয়ান জনগোষ্ঠীর ভাগ্য কোন দিকে যাবে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও বেলজিয়াম।
আজারবাইজারের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ নাগরনো কারাবাখে বসবাসরত জাতিগত আর্মেনিয়ানদের অধিকার ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তারা জানিয়েছিলেন, বেসামরিক মানুষকে শাস্তি দেয়া হবে না। কিন্তু সেখানে থাকা আর্মেনীয়দের কাছে এ প্রতিশ্রুতি বিশ্বাসযোগ্য হয়নি।
উত্তপ্ত নাগোরনো–কারাবাখ, যুদ্ধ গড়ালো তৃতীয় দিনে
যুদ্ধবিরতিতে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান