আর্মেনিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি বহু বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই হয়েছে। সোমবার আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এবং দু’দিনের সফরে ইয়েরেভানে অবস্থানরত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই চুক্তিতে সই করেন।
‘১২৩ এগ্রিমেন্ট’ নামে পরিচিত এই চুক্তির ফলে আর্মেনিয়ার জ্বালানি খাতে রাশিয়ার একক আধিপত্যের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত দেশটির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে রাশিয়ার প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। চুক্তির পর প্রধানমন্ত্রী পাশিনিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই চুক্তি আর্মেনিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অংশীদারিত্বে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, এই চুক্তির ফলে আমেরিকা আইনিভাবে আর্মেনিয়ার কাছে পারমাণবিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম রপ্তানি করতে পারবে। এর আওতায় প্রাথমিকভাবে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ আরও চার বিলিয়ন ডলারের চুক্তি হবে।
বিশেষ করে, স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর বা ক্ষুদ্র মডুলার পরমাণু চুল্লির নতুন প্রযুক্তি সরবরাহের ক্ষেত্রে আর্মেনিয়ার ওপর ওয়াশিংটনের আস্থার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।
আর্মেনিয়া বর্তমানে তাদের পুরনো ও জরাজীর্ণ মেটসামোর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি প্রতিস্থাপনের জন্য আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখছিল। তবে ওয়াশিংটনের সাথে এই চুক্তি আমেরিকার প্রযুক্তি বেছে নেয়ার পথ পরিষ্কার করে দিল। এটি রাশিয়ার জন্য একটি বড় ধাক্কা, কারণ মস্কো দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলকে বরাবরই নিজেদের প্রভাব বলয় হিসেবে গণ্য করে।
ইয়েরেভানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক নারেক সুকিয়াসিয়ান রয়টার্সকে বলেন, রাশিয়ার ওপর বহুমুখী নির্ভরতা কমিয়ে অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনা এখন আর্মেনিয়ার রাজনৈতিক অগ্রাধিকার। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকেই সবচেয়ে বেশি পছন্দ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল গালুজিন দাবি করেছেন, তাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘রোসাটম’ এর প্রস্তাবই আর্মেনিয়ার জন্য সেরা এবং তারা দ্রুত কাজ শুরু করতে প্রস্তুত।
সফরের অংশ হিসেবে জেডি ভ্যান্স 'ট্রাম্প রুট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি' নামক একটি প্রস্তাবিত করিডোর নিয়েও আলোচনা করেন। ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডোরটি দক্ষিণ আর্মেনিয়ার ওপর দিয়ে যাবে, যা আজারবাইজানকে তার ছিটমহল নাখচিভান এবং মিত্র দেশ তুরস্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করবে।
এই করিডোরটি এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি রাশিয়া ও ইরানকে এড়িয়ে বিকল্প বাণিজ্য পথ হিসেবে কাজ করবে। আধুনিক রেললাইন, তেল-গ্যাস পাইপলাইন এবং ফাইবার অপটিক ক্যাবল সমৃদ্ধ এই মেগাপ্রকল্পটি দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের অর্থনীতি বদলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেডি ভ্যান্স বলেন, আমরা শুধু শান্তি স্থাপন করছি না, আর্মেনিয়া ও আমেরিকার জন্য সমৃদ্ধির পথও তৈরি করছি। সফর শেষে বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভ্যান্সের আজারবাইজান যাওয়ার কথা রয়েছে।
রাশিয়ায় ছুরি হামলায় চার ভারতীয় শিক্ষার্থী আহত