অবরুদ্ধ গাজার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল শিফার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার। শেষ তথ্য অনুযায়ী, আল শিফাসহ কয়েকটি হাসপাতাল ও তার আশপাশে তীব্র হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, খাবার ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কিছুই নেই হাসপাতালে। বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরনের অস্ত্রোপচার। এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেল আবিব।
ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় বিধ্বস্ত নগরীতে পরিণত হয়েছে গাজা। দিনে রাতে সমান তালে চলতে থাকা বিমান আর স্থল হামলায় চরম বিপন্ন দশা ফিলিস্তিনিদের। শনিবার গাজার রাফাহ শহরে বিমান হামলায় ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরালেই বেরিয়ে আসতে থাকে মরদেহ।
তারা বলছেন, আমাদের বাড়িতে কিছুই নেই। কোনো ঘাঁটি নেই, অস্ত্রধারী কেউ নেই। তাহলে কেন আমাদের ওপর হামলা চালানো হলো?

আহতদের প্রধান আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে এই আল শিফা হাসপাতাল। কিন্তু এখানেই একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলের সেনারা। আল শিফা হাসপাতালের পরিচালক জানান, হাসপাতালের কম্পাউন্ডের মধ্যে যে কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে ইসরাইলি স্নাইপাররা হামলা চালাচ্ছে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালে জ্বালানি সংকট ও অক্সিজেনের অভাবে ২ নবজাতক মারা গেছে এবং বাকিদের জীবনও ঝুঁকিতে আছে। যেভাবে হাসপাতালে বোমা ফেলা হচ্ছে, রোগীরা ধরেই নিয়েছে এই সংঘাত শেষ হওয়ার আগেই তাদের মৃত্যু হবে। সবাই শুধু প্রহর গুনছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি আশরাফ আল-কিদরা জানান, জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ আছে। এ কারণে ইনকিউবেটরে রাখা দুই নবজাতক মারা গেছে। সেখানে মোট ৪৫টি শিশু চিকিৎসাধীন বলে জানান তিনি।

আল-কিদরা আরও জানান, ইসরাইলের কামানের গোলার আঘাতে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে এক রোগী নিহত হন। ইসরাইলি স্নাইপাররা অন্যান্য ভবনের ছাদ থেকে হাসপাতালের দিকে বিভিন্ন সময়ে গুলি ছুঁড়ছে। যার ফলে কেউ হাসপাতালে ঢুকতে বা সেখান থেকে বের হতে পারছে না।
রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আল শিফা হাসপাতালের আশেপাশের এলাকায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে তীব্র যুদ্ধ চলছে। গাজার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গাজা শহরে ইসরাইলি সেনাদের সঙ্গে হামাস যোদ্ধাদের রাতভর সংঘর্ষ চলেছে। সেখানেই গাজার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল শিফার অবস্থান।
এরই মধ্যে আল-শিফা হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার। এ অবস্থায় হাসপাতালের ইনকিউবেটরে থাকা ৩৭ শিশুসহ হামলায় আহত কয়েক হাজার রোগীকে নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ পরিস্থিতিতে ইসরাইলের প্রধান সামরিক মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি জানান, ইসরাইলি সেনাবাহিনী আল শিফা হাসপাতাল থেকে শিশুদের বের করে আনতে সহায়তা করবে। হাসপাতালের কর্মীদের অনুরোধে এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

ইসরাইলের দাবি, বেসামরিক মানুষকে মানব-ঢাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য হামাস তাদের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক হাসপাতাল ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনার নিচে তৈরি করেছে। এ কারণে তারা আল-শিফা হাসপাতালের আশেপাশে হামলা করছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে হামাস।
আল শিফা হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জন আহমেদ আল-মোখাল্লালাতি রয়টার্সকে বলেন, ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টানা বোমাবর্ষণ চলছে। হাসপাতালে আশ্রয় নেওয়া মানুষ ও হাসপাতালের কর্মীদের বেশিরভাগই এ জায়গা ছেড়ে চলে গেছেন। তবে ৫০০ রোগী এখনো সেখানে আছেন।
হামাসের সামরিক সংগঠন আল-কুদস ব্রিগেড জানিয়েছে, তারা গাজার আল শিফা হাসপাতাল, আল নাসর মহল্লা ও আল শাতি শরণার্থী শিবিরের আশেপাশের এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সহিংস সংঘাতে জড়িয়ে আছে। আল নাসর মহল্লাতেও বেশ কয়েকটি বড় হাসপাতাল আছে।
এদিকে, প্রাণ ভয়ে গাজার উত্তর থেকে দক্ষিণের দিকে সরে যাচ্ছে ফিলিস্তিনিরা। চরম ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ক্ষোভ, শোকে বিপর্যস্ত গাজাবাসী পাড়ি দিচ্ছে দীর্ঘপথ। কিন্তু সে পথের শেষের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। আশ্রয়কেন্দ্রে হওয়া হামলা থেকে বাঁচতে পথে বেরিয়েও আবার মরতেই হচ্ছে রাস্তায়।
পাঁচগুণ গতিতে গলছে গ্রিনল্যান্ডের হিমবাহ