ইউক্রেনে রাশিয়ার চালানো বৃহত্তম মিসাইল হামলার প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিম রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তুতে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে বলে রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।সবশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে বেলগোরোড এবং ব্রায়ানস্কে চারজন নিহত হয়েছে, তাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনের ভূখণ্ড থেকে নিক্ষেপ করা কয়েক ডজন মিসাইল ও ড্রোন ধ্বংস করেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় ৩৯ জন নিহত হবার পর এই হামলা হয়। কিয়েভের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর শুক্রবার দেশটিতে বৃহত্তম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
রাশিয়ার সীমান্ত অঞ্চল বেলগোরোড এর আগেও ইউক্রেন বড় হামলা চালিয়েছিলো। বেলগোরোড শহরের প্রশাসনিক কেন্দ্র ইউক্রেনীয় শহর খারকিভ থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তরে। এই খারকিভই শুক্রবার সকালে রাশিয়ান বাহিনীর প্রচণ্ড গুলিবর্ষণের শিকার হয়েছিল।
শনিবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রাথমিক বিবৃতিতে বলেছে, বেলগোরোডের বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে ইউক্রেনের ছোঁড়া ১৩টি মিসাইল ধ্বংস করা হয়েছে। পরে আরেকটি বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ব্রায়ানস্ক, ওরিওল, কুরস্ক এবং মস্কো অঞ্চলে ৩২টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।
আঞ্চলিক গভর্নর বলেছেন, শনিবার বেলগোরোডে দুই জন শিশু নিহত হয়েছে এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। তিনি আরও জানান, চারজন আহতের জন্য চিকিৎসা করা হচ্ছে এবং বেলগোরোড শহরের পানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। তবে দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হচ্ছে।
এদিকে, ব্রায়ানস্ক অঞ্চলের গভর্নর বলেছেন, দুটি গ্রাম লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং ২০১৪ সালে জন্ম নেয়া এক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, হামলায় ৫৫টি বাড়ি, দুটি ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, একটি ফুটবল মাঠ, একটি অবসর কেন্দ্র এবং একটি প্রাক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মস্কো বারবার ইউক্রেনকে ড্রোন হামলার জন্য দায়ী করেছে, যদিও ইউক্রেন এসবের দায় স্বীকার করেনি। ইউক্রেনের মিডিয়া বলছে, মিসাইল হামলায় মস্কো, বেলগোরড, তুলা এবং টোভারসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। উল্লেখ্য, ব্রায়ানস্কে মিসাইল তৈরির কারখানা রয়েছে।
এরআগে, স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে রাজধানী কিয়েভসহ দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কয়েকটি মিসাইল আঘাত করেছে বলে উল্লেখ করেছে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা। ইউক্রেন সরকার জানিয়েছে, দেশটির রাজধানী কিয়েভ, লিভিভ, ওডেসা ও জাপোরিজ্জিয়া এবং নিপ্রো, খারকিভসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের মাঠে ডাকছে ইয়েমেনের হুতিরা!