রাশিয়া-আমেরিকার চির বৈরী দুই দেশ। দুই মহাশক্তি একে অপরকে বিশ্বাস করে না। বিশ্বে মোড়ল হিসাবে নিজেদের জাহির করার জন্য চলে স্নায়ুযুদ্ধ।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এ দু’দেশের সম্পর্কে একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। বিশেষ করে আমেরিকার নেতা জো বাইডেনের মাথা যেন নষ্ট হয়ে গেছে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এক অনুষ্ঠানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘ক্রেজি সন অব এ বিচ’ বা ‘পাগলা কুত্তার বাচ্চা’ বলে গালি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সদ্য প্রয়াত রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন বাইডেন।
হোয়াইট হাউজ ও নির্বাচনী প্রচারণায় পুতিনের বিরুদ্ধে বাইডেনের মৌখিক আক্রমণ দিনদিন যেন বেড়েই চলেছে। শুক্রবার কারাবন্দি অবস্থায় মারা যান রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা ও পুতিনের কট্টর সমালোচক অ্যালেক্সি নাভালনির মৃত্যু হয়। সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান বাইডেন।
নাভালনির মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন জো বাইডেন বলেছিলেন, আমরা জানি না ঠিক কী ঘটেছিল। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে নাভালনির মৃত্যু পুতিন ও তার গুন্ডাদের কারণেই হয়েছে। এটি পুতিনের নৃশংসতার প্রমাণ। এই প্রতিক্রিয়াকে তেমন আমলে নেয়নি ক্রেমলিন।
বাইডেন যে এবারই এমন ধরনের সব শব্দ ব্যবহার করলেন, তা নয়। এর আগে ইউক্রেনে আগ্রাসনের কারণে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পুতিনকে ‘কসাই’ ও ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলেও সম্বোধন করেছেন বাইডেন। অনেকে বলেন, বয়স বেশি হয়ে যাওয়ায় মাঝেমধ্যে অসচেতনভাবেই এমনসব কাণ্ড করে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এদিকে, পুতিনের কট্টর সমালোচক আলেক্সি নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া ও কন্যা দাশা নাভালনিয়ার সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এ সময় বাইডেন জানান, নাভালনির মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় এই সপ্তাহের মধ্যে মস্কোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করবে যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোয় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বাইডেন জোর দিয়ে বলেন- নাভালনির উত্তরাধিকার রাশিয়া ও সারা বিশ্বের মানুষ বহন করবে। সারা বিশ্বের মানুষ স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য লড়াইয়ে নাভালনির কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পাবে।
এ সময় বাইডেন আরও বলেন, রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব গল্প বলতে যাচ্ছে। কোন ভুল করবেন না, কোন ভুল করবেন না, নাভালনির মৃত্যুর জন্য পুতিন দায়ী। পুতিনই দায়ী। নাভালনির সঙ্গে যা ঘটেছে তা পুতিনের বর্বরতার প্রমাণ, কাউকে বোকা বানানো উচিত নয়।
উল্লেখ্য, অ্যালেক্সি নাভালনি এখন পর্যন্ত রাশিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত বিরোধী নেতা। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে নাভালনি বন্দি ছিলেন। বিভিন্ন মামলায় তাকে ১৯ বছরের কারাদণ্ড দেয় রুশ আদালত। এরপর থেকে তাকে সবচেয়ে সুরক্ষিত জেলে রাখা হয়। গত শুক্রবার কারাবন্দি অবস্থাতেই তিনি মারা যান।
ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্তে চাপের মুখে ফ্রান্স