ভারতে ১৮তম লোকসভা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। ৪৭ দিন ধরে মোট সাত ধাপে অনুষ্ঠিত হবে এবারের লোকসভা নির্বাচন।
শনিবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) রাজীব কুমার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) রাজীব কুমার নির্বাচনের তফসিল করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরু হবে ১৯ এপ্রিল থেকে ১ জুন পর্যন্ত। ফল ঘোষণা করা হবে ৪ জুন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, প্রথম দফায় (১৯ এপ্রিল) পশ্চিমবঙ্গ, জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ছত্তীসগঢ়, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, লক্ষদ্বীপ, আন্দামান নিকোবার, বিহার, সিকিম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, অসম, অরুণাচল প্রদেশে ভোট হবে।
দ্বিতীয় দফায় (২৬ এপ্রিল) ভোট হবে কেরল, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, জম্মু ও কাশ্মীর, অসম, মণিপুর, ত্রিপুরায়।
তৃতীয় দফায় (৭ মে) জম্মু ও কাশ্মীর, গুজরাত, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ছত্তীসগঢ়, গোয়া, দাদরা-নগর হভেলী ও দমন-দিউ এবং চতুর্থ দফায় (১৩ মে) মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ডে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও পঞ্চম দফায় (২০ মে) লাদাখ, জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, মহারাষ্ট্রে, ষষ্ঠ দফায় (২৫ মে) দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশায় এবং সপ্তম দফায় (১ জুন) হিমাচল প্রদেশ, পঞ্জাব, চণ্ডীগড়, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশায় ভোট হবে।
এদিকে সিকিম, ওড়িশা, অরুণাচল প্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ- এই চার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনও হবে লোকসভার সঙ্গে। পাশাপাশি, বিহার, গুজরাত, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, ত্রিপুরা, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, তেলঙ্গানা, হিমাচল প্রদেশ, রাজস্থান, কর্ণাটক, তামিলনাড়ুতে উপনির্বাচন লোকসভার সঙ্গেই হবে এবং চার রাজ্যেই গণনা ৪ জুন বলে রাজীব জানিয়েছেন।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলগুলোকে নোটিশ পাঠানো হবে। সেখানে নির্বাচন নিয়ে আমাদের নির্দেশিকা থাকবে। যাতে নির্বাচনী আচরণবিধি বজায় থাকে সে দিকেও নজর রাখা হবে। প্রচারের সময় প্রার্থীরা যাতে কোনোভাবেই সীমা অতিক্রম না করেন, সে দিকেও নজর দিতে হবে প্রার্থীদেরই।
ভোটের প্রচারণায় কোনো বাজে ভাষার ব্যবহার করা যাবে না। শিশুদের প্রচারের জন্য ব্যবহার করা যাবে না জানিয়ে তিনি বলেন, এবার ২১০০ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে। ওই পর্যবেক্ষকদের কাজ, সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন হচ্ছে কি না, সে দিকে নজর দেওয়া।
লোকসভা
লোকসভা ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ। এই কক্ষের প্রতিনিধিরা প্রত্যক্ষভাবে জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত হন। ২০১৯ সাল অবধি ভারতে মোট ১৭টি লোকসভা গঠিত হয়েছে। সংবিধান অনুসারে, এই কক্ষের প্রতিনিধিদের সর্বোচ্চ কোরাম সংখ্যা ৫৫২। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি সর্বোচ্চ ২০ জন প্রতিনিধি পাঠাতে পারে। রাষ্ট্রপতি যদি মনে করেন যে সভায় অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের যথেষ্ট প্রতিনিধি নেই, তবে তিনি সর্বোচ্চ দুইজনকে মনোনীত করতে পারেন। বর্তমানে অধ্যক্ষ এবং দুইজন মনোনীত প্রতিনিধিসহ (যদি থাকেন) লোকসভার মোট সদস্য বা কোরাম সংখ্যা ৫৪৫।
প্রত্যেক লোকসভার মেয়াদ পাঁচ বছরের। পাঁচ বছর অন্তর এই সভা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বিলুপ্ত হয়। তবে জরুরি অবস্থা ঘোষণার মাধ্যমে এই সভার মেয়াদ আরও একবছর বাড়ানো যায়।
ইসরাইলকে সহযোগিতা করে মামলা খেলো জার্মানি