বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার মরদেহ দান করা হবে। তবে কোন হাসপাতালে মরদেহটি দান করা যায় তা এখন ঠিক হয়নি। এ ব্যাপারে দেশটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এই তথ্য জানান সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম। তিনি জানান, শুক্রবার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, প্রয়াতের পরিবারের সদস্য এবং দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে বেশ কিছু সময় মরদেহ শায়িত থাকবে পাম এভিনিউয়ের বাড়িতে। সেখানে তার ব্যক্তিগত, পরিচিত বন্ধু, নিকট আত্মীয়রা শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহ পিস হেভেনে নিয়ে গিয়ে সংরক্ষণ করা হবে।
সেলিম জানান, শুক্রবার সকালে মরদেহ নিয়ে আসা হবে সিপিআইএমের রাজ্য সদর দপ্তর আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে। সেখানে সর্বসাধারণের জন্য এবং দিল্লি থেকে দলের নেতারা এসে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। সারাদিন শায়িত থাকবে সেখানে। পরে বিকালে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে তার মরদেহ নিয়ে শোকযাত্রা বের হবে।
সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য (৮০) বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সকাল আটটা ২০ মিনিটের দিকে কলকাতার বালিগঞ্জে পাম অ্যাভিনিউয়ের নিজ বাড়িতে মারা যান।
দীর্ঘদিন ধরেই বয়সজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন তিনি। এছাড়াও ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী।
ছেলে সুচেতন ভট্টচার্য জানান, বাবা গত তিন দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। বুধবার বিকেলে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়।
১৯৪৪ সালে পহেলা মার্চ কলকাতায় এক বাঙালি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম নেন বুদ্ধদেব। তিনি ক্ষণজন্মা কবি সুকান্ত ভট্টচার্যের ভাতিজা ছিলেন। আজীবন বামপন্থি আদর্শের বিশ্বাসী এই বরেণ্য রাজনৈতিক সমানতালে সাহিত্যচর্চাও চালিয়ে গেছে।
শৈলিন্দ্র সরকার বিদ্যালয় থেকে স্কুল জীবন শুরু ও শেষের পর প্রেসিডেন্সি মহাবিদ্যালয় (বর্তমানে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। এরপর একটি সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন বুদ্ধদেব।
স্কুলে শিক্ষকতা করার সময় বামপন্থি সংগঠন সিপিএম সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ১৯৬৬ সালে সিপিএমের প্রাথমিক সদস্যপদ নেন। পরে ১৯৭২ সালে সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৭ সালে প্রথমবার তিনি সিপিএম মনোনয়নে বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করেন। কলকাতার কাশিপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্র থেকে সিপিএমের প্রার্থী হয়ে জয় লাভ করে প্রথমবার বিধায়ক হিসাবে নির্বাচিত হন বুদ্ধদেব।
২০০০ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ১১ বছর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার যাদবপুর কেন্দ্র থেকে পরাজয়ের পর সক্রিয় রাজনীতি থেকে ক্রমেই দূরে সরে যেতে থাকেন তিনি। জ্যোতি বসুর মন্ত্রিসভায় ১৯৯৯ সালে উপ মুখ্যমন্ত্রীও হন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।
২০১৯ সালে দলের হয়ে অসুস্থ থাকা অবস্থায় শেষ জনসভা করেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের প্রতি শোক জানিয়েছেন। এসময় বৃহস্পতিবার রাজ্যে পূর্ণ দিবস ছুটি ঘোষণা করেছেন।
মমতা বলেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মৃত্যুতে সরকারের তরফ থেকে গান স্যালুট দেওয়া হবে। মরদেহ বিধানসভায় নিয়ে যেতে বলেছি। যদি পিস ওয়ার্ল্ডে না রেখে রবীন্দ্রসদনের নন্দনে রাখতে চায় তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। অসুস্থ থাকা অবস্থায় বুদ্ধ দাকে আমি বারবার দেখতে গেছি। তাই সুস্থ হয়ে ফিরে আসুক, এটাই সব সময় কামনা করেছি। তিনি অসুস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু যেহেতু শ্বাসকষ্ট ছিল এবং সেটা বেড়ে গিয়েছে। তাই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আমি ওনার স্ত্রী এবং সন্তানের সঙ্গে আছি। রাজ্যের জন্য ওনার প্রচুর অবদান রয়েছে। একটা মানুষ মরে গেলে তার জীবন শেষ হয়ে যায় না তাকে মানুষ মনে রাখে।
