সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার (৯ মে) কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর উপস্থিতিতে বিশাল জনসমাবেশে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। শুভেন্দুর সঙ্গেই তার মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন আরও পাঁচজন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক চমক। খবর আনন্দবাজারের।
শনিবারের এই মেগা অনুষ্ঠানে বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীর পর একে একে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক।

শুভেন্দুর প্রাথমিক মন্ত্রিসভায় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে দুইজন এবং দক্ষিণবঙ্গ থেকে তিনজনকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড়ো চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে মতুয়া ও আদিবাসী প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তিকে। বনগাঁ উত্তর থেকে জয়ী অশোক কীর্তনিয়া এবং বাঁকুড়ার রানিবাঁধ থেকে জয়ী আদিবাসী মুখ ক্ষুদিরাম টুডুকে মন্ত্রিসভায় এনে বিজেপি তাদের সামাজিক সমীকরণের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
বিজেপির প্রথম এই মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া অন্য সদস্যরা হলেন— খড়্গপুর সদরের দিলীপ ঘোষ, আসানসোল দক্ষিণের অগ্নিমিত্রা পাল এবং কোচবিহারের মাথাভাঙা থেকে জয়ী নিশীথ প্রামাণিক। শুভেন্দু অধিকারী নিজে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় আসন থেকেই জয়ী হয়ে রেকর্ড গড়েছেন। তবে মন্ত্রীরা কে কোন দপ্তর পাবেন, তা এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।
গত চার মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলে ২০৭টি আসন পেয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। এরপর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা ছিলো তুঙ্গে। অবশেষে শুক্রবার (৮ মে) অমিত শাহর উপস্থিতিতে পরিষদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে শুভেন্দু অধিকারীকে নেতা নির্বাচিত করা হয়। শাহ জানান, আটটি প্রস্তাবের সব কটিতেই কেবল শুভেন্দুর নাম ছিল, দ্বিতীয় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলো না।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বাংলার ভূমিপুত্র ও বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করা কাউকেই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি মেনেই শুভেন্দু অধিকারীকে বেছে নেওয়া হলো বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল।
