যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেও গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরতার সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। প্রতি মুহূর্তে মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। একদিকে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, অন্যদিকে প্রধান সাহায্য সংস্থা গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সীমিত করার সিদ্ধান্তে তীব্র খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে।
৩৪ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি ফাতিমা আরফা ছয় মাসের গর্ভবতী। যুদ্ধের কারণে তিনি অনাগত সন্তানের জীবন নিয়ে শঙ্কিত। তার উদ্বেগ কেবল গাজায় চলমান সংঘাতই নয়, খাদ্যের অভাবে রক্তস্বল্পতার সাথে লড়াই করতে হচ্ছে তাকে। উত্তর গাজায় পরিবারসহ আরফাকে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে হয়েছে বহু আগেই।

এখন স্বামী এবং পাঁচ সন্তানের সাথে এক অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছেন তিনি। এই কঠিন পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সেবা পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়েছে। কারণ যেকোনো ধরনের চিকিৎসা সেবা পেতে অনেকটা পথ হেঁটে যেতে হবে আরফাকে। তিনি বলেন, ছয় মাসের ভ্রূণ হারানো নিয়ে আমি আসলেই অনেক ভীত।
এদিকে, গাজার আল-হেলু হাসপাতালের পরিচালক ফাতি আল-দাহদুহ, আরফার ফাইল পর্যালোচনা করে বলেন, তাকে রক্ত সঞ্চালনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন। আরফার ছেলে বলেন, মা এখন অপুষ্টি ও রক্ত স্বল্পতায় ভুগছে। মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য, পনির, ফল এবং শাকসবজির অভাবের কারণে তার এই অবস্থা।

২০২৫ সালের জুনে জাতিসংঘ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় আনুমানিক ৫৫ হাজার গর্ভবতী নারী গর্ভপাত, মৃত প্রসব এবং অপুষ্টিতে ভুগছেন।
আরেক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ বলছে, গাজার প্রায় ১১ হাজার গর্ভবতী নারী এরইমধ্যে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং আগামী মাসগুলোতে প্রায় ১৭ হাজার গর্ভবতী নারীর তীব্র অপুষ্টির কারণে জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন হবে। ইসরাইলের প্রায় দুই বছরের সামরিক অভিযানে গাজার প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
দিল্লিতে চারতলা ভবনে ধসে নিহত দুই, শিশুসহ উদ্ধার আট