ইসরাইলে মারাত্মক চাপে রয়েছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার। যে কোন সময় পতন হতে পারে। সেনাবাহিনীকে চাকরি বাধ্যতামূলক করা নিয়ে বিরোধের জেরে একটি ধর্মীয় দল ইসরাইলের ক্ষমতাসীন জোট থেকে বেরিয়ে গেছে, ফলে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু পার্লামেন্টে সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ঠিকে আছেন। তবে গাজায় সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার জন্য এখনও যথেষ্ট রাজনৈতিক সমর্থন রয়েছে।
ইসরাইলি নাগরিকের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দেশের সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করা বাধ্যতামূলক। তবে হারেদি নামে একটি কট্টর ইহুদি ধর্মীয় গোষ্ঠীর সদস্যরা এ ব্যাপারে ছাড় পেয়ে আসছিল। কিন্তু গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষিতে সেনা ঘাটতি মোকাবিলায় সম্প্রতি নতুন একটি বিল আনা হয়েছে যেখানে হারেদি গোষ্ঠীর সদস্যদের জন্যও সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
এই নিয়ে তানিয়াহুর জোট সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) তীব্র বিরোধিতা করে আসছিলো, যা চরমে পৌঁছার কারণে সরকার থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এর ফলে চলমান গাজা যুদ্ধের এক কঠিন সময়ে নেতানিয়াহুর শাসন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
অতি-অর্থোডক্স ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের জন্য ভবিষ্যতে সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি নিশ্চিত করতে আইন প্রণেতাদের ব্যর্থতার প্রতিবাদে, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের (ইউটিজে) ছয় সদস্য রাতারাতি সংসদীয় কমিটি এবং সরকারি মন্ত্রণালয়ের পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
ইউটিজে-র সাথে ঘনিষ্ঠ দ্বিতীয় অতি-অর্থোডক্স দল শাস সরকার থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এতে করে নেতানিয়াহু সংসদে সংখ্যা গরিষ্ঠতা হারাবেন। ইউটিজে আইন প্রণেতারা জানান, ৪৮ ঘন্টা পরে তাদের ওয়াকআউট কার্যকর হবে। কারণে সমস্যা সমাধানে নেতানিয়াহুকে দুদিন সময় দেবেন তারা।
যদি নেতানিয়াহু ব্যর্থ হলেও সংসদ গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে যাবে। যার ফলে প্রধানমন্ত্রীকে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর আগে সমাধান খুঁজতে আরও তিন মাস সময় দেওয়া হবে। কাতারে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা নিয়ে নেতানিয়াহু তার জোটের অতি-ডানপন্থী দলগুলোর চাপের মুখোমুখিও হচ্ছেন।
২০২২ সালে জোট সরকার গঠন করেন নেতানিয়াহু। তার এই সরকারকে ইসরাইলের এ যাবৎকালের সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থি সরকার বলা হয়ে থাকে। হারেদি শিক্ষার্থীদের সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিষয়টি ছাড় দেয়ার শর্তেই জোট সরকার গড়তে সম্মত হয়েছিল ডানপন্থি দলগুলো।
তবে বাকি দলগুলো এই আইনে ছাড়ের সম্পূর্ণ বিরোধী ছিল। এর মধ্যেই গত বছর দেশটির সর্বোচ্চ আদালত ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের জন্যও সেনাবাহিনীতে যোগদানের পক্ষে রায় দেয়। ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নানাভাবে চেষ্টা করে আসছেন নেতানিয়াহু। তবে শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ হলো।
