পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে একটি ক্যাবল রেল দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ১৮ জন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হতাহতের মধ্যে মধ্যে বিদেশি নাগরিকেরাও রয়েছেন। তবে তাদের জাতীয়তা নিশ্চিত করা যায়নি। এই ঘটনায় পর্তুগালে জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
লিসবনের পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় এলিভাদোর গ্লোরিয়া নামের ফানিকুলার বা ক্যাবল রেল। যা দীর্ঘ দিন থেকে শহরের প্রাণকেন্দ্রে রেসতোরাদোস থেকে বাইরো আলতো এরিয়াতে নিচ থেকে উপরে বা উপর থেকে নিচে যাত্রী পারাপার করে আসছিলো। এই ক্যাবল কার পর্তুগালে বেড়াতে আসা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।

স্থানীয় সময় বুধবার বিকাল ৬টার দিকে হঠাৎই একটি ফানিকুলার দ্রুত গতিতে নিচের দিকে নামতে থাকে এবং পাশের বিল্ডিংয়ে ধাক্কা লেগে এটি ভেঙে পড়ে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, উজ্জ্বল হলুদ রঙের গ্লোরিয়া ফিউনিকুলার উল্টে গিয়ে প্রায় পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ সময় সেখানকার লোকজনকে দৌড়ে পালাতে দেখা যায়। প্রসঙ্গত, ফিউনিকুলার হলো ‘ঢালু ট্রেন’ বা ‘পাহাড়ি ক্যাবর ট্রাম’। স্থানীয় লোকজন একে প্রায়ই এলভেদর দে গ্লোরিয়া বলে ডাকেন।

দুর্ঘটনা পরপরই পুলিশ ও দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের লিসবনের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক গর্ভবতী নারী ও তার শিশু সন্তানও রয়েছে। নিহত ও আহতদের মধ্যে দেশি-বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তবে বিদেশিদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
এক লিসবনের ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মী বলেন, দুর্ঘটনার খবর আমাদের জানানো সাথে সাথেই আমরা তিন মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি এবং উদ্ধার কাজ শুরু করি। তবে দুর্ঘটনার কারণ যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বিশ্লেষণ করতে পারবে। হতাহতদের মাঝে বেশ কয়েকজন বিদেশি শনাক্ত করা হয়েছে। তবে আমি এখনও এটি নিশ্চিত করতে পারছি না তারা কোন দেশের।

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর বৃহস্পতিবার পর্তুগালে জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং রাজধানী লিসবনে তিনদিনের শোক পালিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন লিসবনের সিটি মেয়র কার্লোস মোয়েদা। এদিকে ক্যাবল রেলের এই দুর্ঘটনা পর ইউরোপীয় নেতারা সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করেছেন।
পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো দে সুজা মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি ও সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন।
১৮৮৫ সাল থেকে প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ১৪০ বছর ব্যবহার হয়ে আসছে এই ক্যাবল রেল। লিসবন শহরটি সাতটি পাহাড়ের ওপর অবস্থিত। এর ফলে ওপর থেকে নিচে আবার নিচ থেকে ওপরে পথচারীদের পারাপারের জন্য শহরের বিভিন্ন অংশে এই ধরনের সেবা চালু আছে। দুর্ঘটনার পর সবগুলো সার্ভিসই বন্ধ করে দেয়া হয়।
প্রদর্শিত নতুন অস্ত্রগুলো চীনের সামরিক শক্তি সম্পর্কে কী বলে
জেলেনস্কিকে মস্কো ডেকে সংশয়ও জানালেন ট্রাম্প