সামাজিক মাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিলেও টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজপথে নেমে এসেছেন নেপালের তরুণ প্রজন্ম। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই কারফিউকে উপেক্ষা করে রাজধানী কাঠমান্ডুর নতুন বানেশ্বর এলাকায় দেশটির পার্লামেন্ট ভবনের সামনে এবং কাঠমান্ডু উপত্যকার বিভিন্ন অংশে জড়ো হতে শুরু করেন তরুণরা। তাদের হাতে কোনো ব্যানার বা প্ল্যাকার্ড নেই।
দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট আরও জানিয়েছে, সরকারি দমন-পীড়নের প্রতিবাদে মঙ্গলবার ভোর থেকেই কলঙ্কি, চাপাগাঁও এবং উপত্যকার অন্যান্য স্থানেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফেডারেল পার্লামেন্ট ভবনের সামনে থেকে পুলিশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।
কর্তৃপক্ষ কাঠমান্ডু, ললিতপুর এবং ভক্তপুর জেলা জুড়ে কারফিউ জারি করেছে। কাঠমান্ডু জেলা প্রশাসন অফিস সকাল সাড়ে আটটা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত রিং রোডের ভcতরে কারফিউ ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে বালকুমারী সেতু, কোটেশ্বর, সিনামঙ্গল, গৌশালা, চাবাহিল, নারায়ণ গোপাল চক, গঙ্গাবু, বালাজু, স্বয়ম্ভু, কলঙ্কি, বলখু এবং বাগমতী সেতু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ললিতপুরের বেশ কিছু অংশে সকাল ৯টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে ভাইসেপতি, সানেপা এবং ছায়াল। ভক্তপুরে সকাল সাড়ে আটটা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মধ্যপুর থিমি, সূর্যবিনায়ক, চাঙ্গুনারায়ণ এবং ভক্তপুর পৌরসভায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সব ধরণের চলাচল, সমাবেশ, মিছিল, সভা এবং অবস্থান ধর্মঘট নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেই মঙ্গলবার সকাল থেকে নতুন বানেশ্বরে সংসদ ভবনের কাছে তরুণরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে জড়ো গদে শুরু করে। তাদের হাতে কোনও ব্যানার ছিল না। এক বিক্ষোভকারী বলেন, সোমবারের ঘটনা সরকারের ব্যর্থতা প্রকাশ করেছে। আমি এখানে অন্যান্য তরুণদের পাশে দাঁড়াতে এসেছি।

গত সপ্তাহে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, এক্সসহ ২৬টি সামাজিক মাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম ও বার্তা আদান–প্রদানের অ্যাপের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে নেপাল সরকার। নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে সোমবার রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেন নেপালের কয়েক হাজার মানুষ, তাঁদের বেশিরভাগই তরুণ বা জেন–জি প্রজন্মের। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ দেশটির অন্তত সাতটি শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।
কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভকারীরা একপর্যায়ে পুলিশের প্রতিবন্ধকতা ভেঙে পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টাও করেন। তখন বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। একপর্যায়ে গুলিও চালানো হয়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং চার শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি সহিংসতা হয় কাঠমান্ডুতে।
বিক্ষোভে বহু মৃত্যুর পর নেপালে সামাজিক মাধ্যম থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার