পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে চরম অমানবিক পরিস্থিতির শিকার। তাঁর দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলাইমান ইসা খান আশঙ্কা করছেন যে, তারা হয়তো তাদের বাবাকে আর কোনোদিন জীবিত দেখতে পাবেন না।
স্কাই নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁরা জানিয়েছেন, তাদের বাবার ওপর ‘মানসিক নির্যাতন’ চালানো হচ্ছে এবং তাঁকে একটি ‘ডেথ সেল’ বা মৃত্যুপুরীতে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

নিঃসঙ্গ কারাবাস ও অমানবিক পরিবেশ
ইমরান খানের ছোট ছেলে কাসিম জানান, তার বাবাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন বা ‘সলিটারি কনফাইনমেন্টে’ রাখা হয়েছে। কাসিমের বর্ণনা অনুযায়ী, ইমরান খানকে নোংরা পানি পান করতে দেয়া হচ্ছে। তাঁর চারপাশের বন্দিরা হেপাটাইটিসের মতো মারণ রোগে আক্রান্ত।
কাসিশ খান আরও বলেন, কারাগারের নিরাপত্তারক্ষীদেরও তাঁর সঙ্গে কথা বলার অনুমতি নেই। দিনের ২৩ ঘণ্টাই তাঁকে একটি ছোট প্রকোষ্ঠে বন্দি থাকতে হচ্ছে।
ইমরান খানের বড় ছেলে সুলাইমান ইসা খান একে ‘ডেথ সেল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে ইমরান খানকে সম্পূর্ণ আইসোলেশনে রাখা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বন্দি আইনের চরম লঙ্ঘন।
পরিবারের উদ্বেগ ও আর্তি
ইমরান খানের প্রথম স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথের দুই সন্তান কাসিম ও সুলাইমান জানান, গত কয়েক মাস ধরে তাদের বাবার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। ইমরান খানের বোন আলিমা খানও একই অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, পরিবারকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না এবং তাঁকে বেআইনিভাবে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের উদ্বেগ
এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস। তিনি পাকিস্তান সরকারের কাছে অবিলম্বে ইমরান খানের আটক অবস্থার উন্নতির দাবি জানিয়েছেন। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইমরান খানের বর্তমান পরিস্থিতি ‘অমানবিক ও মর্যাদাহানিকর’, যা নির্যাতনের শামিল।
সার্বক্ষণিক ক্যামেরা নজরদারির মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তাঁকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইমরান খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদসহ একাধিক মামলা দেয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন। তাঁর সমর্থক ও পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁকে এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে।
