নেপালের জাতীয় নির্বাচনে প্রথাগত রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে স্তব্ধ করে দিয়ে এক অভাবনীয় জনসমর্থন পেয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। শনিবার (৭ মার্চ) নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আনুপাতিক ভোট (পিআর) গণনায় এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ভোটের অর্ধেকেরও বেশি একাই বাগিয়ে নিয়েছে দলটি। সরাসরি আসনের লড়াইয়েও পুরনো বড়ো দলগুলোকে ধরাশায়ী করে নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রেখেছে আরএসপি, যা হিমালয় কন্যা এই দেশটির রাজনীতিতে এক নতুন যুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে তিন বছর আগে গঠিত এই দলটি।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ১৬৫টি সরাসরি আসনের মধ্যে আরএসপি ইতিমধ্যে ৩২টিতে জয় নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া আরও ৮৭টি আসনে দলটির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।
অন্যদিকে, নেপালের দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি নেপালি কংগ্রেস ১৬৫টি আসনের মধ্যে মাত্র ছয়টিতে জয় পেয়েছে এবং ১০টিতে এগিয়ে আছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির দল সিপিএন-ইউএমএল জয় পেয়েছে মাত্র দুটিতে এবং ৯টিতে এগিয়ে রয়েছে। এছাড়া নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি দুটি জয় ও সাতটি আসনে এগিয়ে আছে। স্বতন্ত্র ও অন্য ছোট দলগুলো মিলে এখন পর্যন্ত একটি আসনে জয় পেয়েছে।
নেপালের মিশ্র নির্বাচনি ব্যবস্থায় ভোটাররা সরাসরি আসনের পাশাপাশি দলের জন্য আলাদাভাবে ভোট (পিআর পদ্ধতি) দিয়ে থাকেন। এই পদ্ধতিতেও আরএসপির জনসমর্থন চোখে পড়ার মতো।
এখন পর্যন্ত গণনা করা ৮৪ হাজার ৯২টি ভোটের মধ্যে আরএসপি একাই পেয়েছে ৪৬ হাজার ৪৭টি ভোট, যা মোট গণনা করা ভোটের প্রায় ৫৪ দশমিক আট শতাংশ। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা নেপালি কংগ্রেস পেয়েছে ১৪ হাজার ৩৩২ ভোট এবং ইউএমএল পেয়েছে আট হাজার ৬১০ ভোট। অন্য দলের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি পাঁচ হাজার ৪৪২ ভোট এবং নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি তিন হাজার ৪১০ ভোট পেয়েছে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্য ছোট দলগুলো অনেক ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় পরিবর্তন পার্টি এক হাজার ৯৬২ ভোট, শ্রম সংস্কৃতি পার্টি এক ৭৪২ ভোট এবং নেপাল মজদুর কিষাণ পার্টি ৭৪৭ ভোট পেয়েছে।
২০২৫ সালের জেন-জি আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত এই প্রথম সাধারণ নির্বাচনে আরএসপির এই উত্থানকে নেপালের রাজনীতিতে একটি বড়ো ধরনের ক্ষমতার পটপরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
