নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরা ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্টের জায়ের বলসোনারো বলেছেন, তিনি রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে এবং সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
সাও পাওলোতে হাজার হাজার সমর্থকের উপস্থিতিতে এক জনসভায় তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে উঠা সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আর ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হতে হচ্ছে আমাকে।
২০২২ সালের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর জায়ের বলসোনারো একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থানে উসকানি দিয়েছিলেন কিনা তা তদন্ত করছে পুলিশ।
সাও পাওলোর সমাবেশে অংশ নেওয়া রোজেরিও মরগাডো নামের একজন সামরিক কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, ব্রাজিলিয়ান রাজনীতিবিদের একমাত্র ভয় হলো জনগণের রাস্তায় নেমে আসা।
মাত্র কয়েকদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার পরই সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের চেষ্টা ও সামরিক প্রধানদের অভ্যুত্থানের চাপ দেওয়ার অভিযোগে এখন তদন্তের মুখোমুখি তিনি।
দুই বছর আগের ভোটে বলসোনারো হেরেছেন বামপন্থী নেতা লুলা দা সিলভার কাছে। এরপর তার হাজার হাজার সমর্থক রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় সরকারি বিভিন্ন ভবনে হামলা চালায়। এরমধ্যে রয়েছে- প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ, সুপ্রিম কোর্ট ও আইনসভার মতো স্থাপনা। হামলার সময় লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ এই ঘটনায় প্রায় ৪০০ জনকে আটক করে, যাদের মধ্যে রয়েছেন বলসোনারোর তিন সহযোগীও। এছাড়া তার রাজনৈতিক দলের প্রধানকেও আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে সন্দেহ ছড়ানোর অভিযোগ এনেছে পুলিশ।
পুলিশের আরো দাবি, সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ায় বলসোনারোর সমর্থকরা কংগ্রেস, সুপ্রিম কোর্ট ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামলা চালায়।
কংগ্রেসে হামলার সময় বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। তিনি ব্রাজিলের রাজনীতিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী ডানপন্থি ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।
পশ্চিমা সাহায্য না পেয়ে পিছিয়ে পড়ছে ইউক্রেন