ইরানের সাথে চলমান সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার রাতে হাউজ রিপাবলিকানদের এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে তিনি জানান, কংগ্রেসের অনুমোদন সংক্রান্ত আইনি জটিলতা এড়াতেই তিনি এই শব্দ ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, আমি 'যুদ্ধ' শব্দটি ব্যবহার করব না। কারণ তারা বলে, এই শব্দ ব্যবহার করা হয়তো ঠিক হবে না। তারা এটি পছন্দ করে না, কারণ এর জন্য অনুমোদনের (কংগ্রেসের) প্রয়োজন হয়। তাই আমি একে ‘সামরিক অভিযান’ বলব, যা প্রকৃতপক্ষে এটিই।
তবে বক্তব্যে সতর্ক থাকলেও মাঝে মাঝেই তাঁর মুখ ফসকে ‘যুদ্ধ’ শব্দটি বেরিয়ে আসছে। ওই একই অনুষ্ঠানে এক পর্যায়ে তিনি বলেন, আমরা ভেতরে যাওয়ার কয়েক দিন পরেই মূলত যুদ্ধ শেষ হয়ে গিয়েছিল। এর আগে তিনি এই সংঘাতকে একটি ‘ভ্রমণ’ হিসেবেও বর্ণনা করেছিলেন যা আমেরিকাকে বড় যুদ্ধ থেকে দূরে রাখবে।

সাংবিধানিক ও আইনি মারপ্যাঁচ: এই শব্দগত বিতর্কের নেপথ্যে রয়েছে একটি গভীর আইনি প্রশ্ন। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী শুধু কংগ্রেসের 'যুদ্ধ ঘোষণা' করার ক্ষমতা রয়েছে, তবে প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান বা 'কমান্ডার-ইন-চিফ'। ১৯৭০-এর দশকের 'ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট' অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ৬০ দিন সামরিক শত্রুতা বজায় রাখতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকানদের দাবি, ইরানি মিসাইল হামলার হুমকির মুখে এই অভিযান সাংবিধানিকভাবে বৈধ। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ট্রাম্প আইনি ক্ষমতার বাইরে গিয়ে এই হামলা চালিয়েছেন।
কংগ্রেসে বিভক্তি: সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের এই যুদ্ধকালীন ক্ষমতা খর্ব করার জন্য তিনবার ভোট দিলেও রিপাবলিকানদের বিরোধিতার কারণে তা সফল হয়নি।
কানেটিকাটের ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর ক্রিস মারফি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমেরিকা একটি বিদেশি শক্তির সাথে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত, যেখানে আমাদের সেনারা মারা যাচ্ছে, অথচ কংগ্রেসের মাধ্যমে বিষয়টি জনসাধারণের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা হচ্ছে।
সবশেষ ভোটে পেনসিলভানিয়ার জন ফেটারম্যান বাদে সব ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে কেনটাকির র্যান্ড পল বাদে সব রিপাবলিকান এর বিপক্ষে অবস্থান নেন।

পুরানো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: মার্কিন রাজনীতিতে সামরিক অভিযানকে 'যুদ্ধ' বলতে অনিচ্ছা নতুন কিছু নয়। ২০১১ সালে বারাক ওবামা যখন লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফির ওপর বিমান হামলা চালান, তখনও তাঁর প্রশাসন একে যুদ্ধ বলতে চায়নি। তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বেন রোডস একে 'কাইনেটিক মিলিটারি অ্যাকশন' বা সীমিত সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, কূটনৈতিক পথ ব্যর্থ হওয়ার পরই তারা এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে খোদ রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসনও প্রেসিডেন্টের সুর মিলিয়ে বলেছেন, আমরা এখন যুদ্ধে নেই; আমরা একটি নির্দিষ্ট এবং স্পষ্ট মিশনে আছি।
তথ্যসূত্র: সিবিএস নিউজ
