ইরানের ব্যাপারে তাঁর শীর্ষ সহযোগীদের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত রোববার তিনি মন্তব্য করেন, তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমনের ক্ষেত্রে তাঁর জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড তাঁর তুলনায় কিছুটা ‘নরমনীয়’। খবর রয়টার্স।
ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো বাসভবনে সপ্তাহান্ত কাটিয়ে এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। তেহরানের পারমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে চুক্তি খুব শিগগিরই হতে পারে বলে আভাস দিয়ে তিনি জানান, জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক গ্যাবার্ডের ওপর তাঁর এখনও পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

গ্যাবার্ড সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, চিন্তাভাবনার প্রক্রিয়ায় সে আমার চেয়ে কিছুটা আলাদা। তবে এর মানে এই নয় যে কেউ দায়িত্ব পালনের অযোগ্য হয়ে গেছে। আমি এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না; কারণ তারা অস্ত্র পাওয়া মাত্রই তা ব্যবহার করবে। আমার মনে হয় সে (গ্যাবার্ড) এই ইস্যুতে হয়তো কিছুটা নমনীয়, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই।
দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করা ইরান বিরোধী যৌথ মার্কিন-ইসরাইলি অভিযান নিয়ে ট্রাম্প সাধারণত তাঁর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যকার মতভেদ জনসমক্ষে স্বীকার করেন না। তবে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই সংঘাতের বিষয়ে বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান নেতা ব্যক্তিগতভাবে এই যুদ্ধের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন থেকে শুরু থেকেই পরস্পরবিরোধী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রশাসনের কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেয়ে মাত্র কয়েক সপ্তাহ দূরে আছে। যদিও খোদ প্রেসিডেন্টসহ অন্য অনেকে দাবি করেছিলেন যে, গত গ্রীষ্মে মার্কিন-ইসরাইলি অভিযানেই ইরানের অস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস হয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধু শান্তিপূর্ণ কাজের জন্য।
সাবেক ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য তুলসী গ্যাবার্ড চলতি মাসের শুরুর দিকে আইনপ্রণেতাদের জানান যে, ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ কোথায় রাখা হয়েছে সে সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে ‘সুনিশ্চিত’ তথ্য রয়েছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র তা ধ্বংস করার সক্ষমতা রাখে কি না, সে বিষয়ে তখন তিনি জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে, গ্যাবার্ডের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম সেন্টারের প্রধান জো কেন্ট চলতি মাসের শুরুর দিকে যুদ্ধ ইস্যুতে পদত্যাগ করেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো আসন্ন হুমকি নয়। এ সম্পর্কে কোথাও কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য কারও কাছে নেই।
